স্ত্রী, সন্তান আর পরিবারের সুখের জন্য প্রায় তিন বছর আগে জন্মভিটা ছেড়েছিলেন কুষ্টিয়ার কুমারখালীর যুবক মো. রশিদুল। জীবিকার্জনের জন্য পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। সংসারে বাড়তি আয়ের জন্য নিজ বাড়িতে একটি গাভীর খামারও গড়ে তুলেছেন। তবে ওই খামারই যেন তার জীবনের এক অভিশাপের দাগ কাটল। সাজানো গোছানো সংসার ভেঙে তছনছ করে গত ১৮ মে খামারে দুধ কিনতে আসা ঘোষ রকি হোসেনের হাত ধরে পালিয়েছে প্রবাসীর রশিদুলের প্রিয়তম স্ত্রী সুমি খাতুন (২৬)। শুধু পালিয়েই খ্যান্ত হননি সুমি, বরং সঙ্গে নিয়ে গেছেন এই প্রবাসীর জমানো সব নগদ টাকা আর স্বর্ণালংকার। রশিদুল জগন্নাথপুর ইউনিয়নের হাসিমপুর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে মো. রশিদুল (৩৫)। রশিদুল জানান, ২০ মে তার বাড়ি আসার কথা ছিল। তিনি বিমানবন্দরে পৌছালে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করবেন স্ত্রী সুমি। সেজন্য ১৮ মে ফুল কেনার কথা বলে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে আর ফিরেনি সুমি। পরে জানা যায় পরকিয়া প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়েছেন সুমি। তাঁর ভাষ্য, এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় স্ত্রীর সঙ্গে তিনি হারিয়েছেন জীবনের অর্জিত সকল সম্পদ আর সম্মান। নয় ও পাঁচ বছর বয়সি দুই সন্তানকে নিয়ে যেন অথৈয় সাগরে পড়েছেন। দ্রুত স্ত্রী ও সম্পদ ফিরে পেতে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। জানা গেছে, প্রায় ১২ বছর আগে উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের হাসিমপুর গ্রামের যুবক রশিদুলের সঙ্গে হোগলা গ্রামের আমির হোসেনের মেয়ে সুমি খাতুনের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাঁদের কোলজুড়ে রিফাত হোসেন (৪) ও সাদিয়া খাতুন (৯) নামে দুই সন্তানও রয়েছে। প্রায় তিন বছর আগে রশিদুল জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় পাড়ি দেন। তাঁর বাড়িতে একটি গাভীর খামারও রয়েছে। প্রায় এক বছর যাবৎ একই ইউনিয়নের দয়রামপুর গ্রামের মৃত বিল্লাল হোসেনের ছেলে রকি হোসেন (২৩) তার খামার থেকে দুধ সংগ্রহ করে থাকেন। দুধ কেনাবেচার সুযোগে রকি ও সুমির মাঝে পরকিয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। একপর্যায়ে গত ১৮ মে দুপুরে সুমি নগদ প্রায় ১৪ লাখ টাকা, ২ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার নিয়ে রকির সঙ্গে পালিয়ে যান। তাদের মুঠোফোনও বন্ধ রয়েছে। এতে সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসার উপক্রম প্রবাসী রশিদুলের। স্ত্রী ও সম্পদ হারিয়ে সন্তানদের নিয়ে অথৈয় সাগরে পড়েছেন এই প্রবাসী। রকির পরিবারে সন্তান সম্ভা স্ত্রী রুপালি খাতুন আছেন। শুক্রবার বিকেলে হাসিমপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, দুই সন্তানকে নিয়ে উঠানে বসে আছেন প্রবাসী রশিদুল। তাদের চোখে মুখে হতাশার ছাপ। থেকে থেকে বিলাপ করছেন রশিদুল। তাকে শান্ত্বনা দিচ্ছেন প্রতিবেশীরা। এ সময় রশিদুল বলেন, বাড়ি করার জন্য ১৪ শতাংশ জমি কেনার বায়নানামা করা হয়েছে। পুরো টাকা পরিশোধের জন্য ৬ লাখ টাকা ঋণসহ মোট সাড়ে ১১ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিল সুমির কাছে। মাসখানেক আগে কাটা টিকিট অনুযায়ী ২০ মে বাংলাদেশে আসার দিন ছিল। আর দুদিন আগেই সবকিছু নিয়ে পরকীয়া প্রেমিক রকির সঙ্গে পালিয়েছে সুমি। এখন ছেলে -মেয়েরা সব সময় কাঁন্নাকাটি করতেছে। এভাবে আর কতসময় মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে রাখব। আপনারা দ্রুত সুমিকে উদ্ধার করে দেন। প্রতিবেশী গৃহিণী ময়না খাতুন বলেন, বছরখানেক হলো রকি ঘোষ দুধ নেওয়ার জন্য যাওয়া আসা করে। ওরও (রকি) বউ আছে, বাচ্চা হবি। কিন্তু কখন ওরা পরকীয়া করেছে তা টের পাওয়া যায়নি। পালিয়ে যাওয়ার পর বুঝা গেল। তাঁর ভাষ্য, সুমির সংসারে কোনো অভাব ছিলোনা। তবুও কিসের লোভে বিদেশী স্বামীর টাকা, পয়সা গহণা নিয়ে পালালো তা জানা নেই। শিমা খাতুন নামের আরেক প্রতিবেশী বলেন, সম্পর্ক যতই থাক। এভাবে দুইটা ছেলে – মেয়ে রেখে টাকা পয়সা গহণা নিয়ে চলে যাওয়া ঠিক হয়নি। এদের কারণে অন্য নারীদের বিশ্বাস করেনা স্বামী ও স্বজনরা। সরেজমিন দয়রাম গিয়ে দেখা যায়, রকি বাড়িতে নেই। তাঁর ফোনটিও বন্ধ। তাঁর স্ত্রী রূপা খাতুন চলে গেছেন বাবার বাড়ি। এসময় রকির মা আছমা খাতুন বলেন, দুই- তিনদিন হলো রকি বাড়িতে আসেনি। কোনো যোগাযোগ নেই। শুনতিছি কার বউ নিয়ে চলে গেছে। তবে টাকা পয়সা নেছে কি না? তা জানিনে। কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, ধারনা করা হচ্ছে পরকীয়া প্রেমের জেরে সুমি-রকি আত্মগোপনে রয়েছেন। লিখিত অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।