অনুষ্ঠানে একদলীয় কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান, ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের সংগ্রাম জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আজ শনিবার শহীদদের স্মরণে সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নির্মিত অস্থায়ী শহীদ বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এরপর অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন সিপিবি সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম, সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, সহকারী সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মানবেন্দ্র দেব প্রমুখ।
এ সময় সিপিবি সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ‘যে প্রতিক্রিয়াশীল অপশক্তির হাতে আমাদের কমরেডরা শহীদ হয়েছিলেন এই সরকারের আমলে তারা আরো শক্তিশালী হয়েছেএরশাদ স্বৈরাচারের পতনের পর আওয়ামী লীগ-বিএনপি বারবার ক্ষমতায় এসেছে, কিন্তু গণতন্ত্র আসেনি। এদের অপরাজনীতি, গণতন্ত্র ও গণবিরোধী রাজনীতি দেশ ও জাতিকে জিম্মি করে রেখেছে। এর থেকে মানুষ মুক্তি চায়।’ দেশবাসীকে মুক্ত করতে নীতিনিষ্ঠ বাম গণতান্ত্রিক শক্তির পতাকাতলে সচেতন দেশবাসীকে সমবেত হতে হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নেতারা বলেন, দুর্নীতি, লুটপাট, সাম্প্রদায়িকতাকে পরাজিত করে গণতন্ত্র ও শোষণমুক্ত সমাজ সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে। এ জন্য আওয়ামী ও বিএনপি ধারার বাইরে বাম গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীলদের বিকল্প শক্তি সমাবেশ গড়ে তুলতে হবে।
ভোটাধিকার, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণ-আন্দোলন ও গণসংগ্রাম গড়ে তোলার আহ্বান জানান তাঁরা। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।২০০১ সালের এই দিনে রাজধানীর পল্টন ময়দানে সিপিবির মহাসমাবেশে বোমা হামলা চালায় প্রতিক্রিয়াশীল ঘাতকচক্র। এই হামলায় খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার সিপিবি নেতা হিমাংশু মণ্ডল, খুলনা জেলার রূপসার দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির শ্রমিক নেতা আব্দুল মজিদ, ঢাকার ডেমরা থানার লতিফ বাওয়ানি জুট মিলের শ্রমিক নেতা আবুল হাসেম ও মাদারীপুরের মোক্তার হোসেন ঘটনাস্থলেই এবং খুলনা বিএল কলেজের ছাত্র ইউনিয়ন নেতা বিপ্রদাস রায় আহত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। বোমা হামলায় শতাধিক কমরেড আহত হন।