চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গল ছলিমপুরে ‘স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হামলায়’ র্যাব সদস্য নিহতের ঘটনায় আরও তিন জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে র্যাব।
নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে শুক্রবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. পারভেজ (৩৫), মো. বেলাল (৩০) ও সাইদুল ইসলাম (২৬)। তারা তিনজনই এজাহারভুক্ত আসামি বলে র্যাবের ভাষ্য।
শনিবার র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, শুক্রবার নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার নবগ্রাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে পারভেজকে গ্রেপ্তার করা হয়।
একই দিন চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী এলাকা থেকে বেলাল ও বায়েজিদ থানার শেরশাহ বাংলাবাজার এলাকা থেকে সাইদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।গত ১৯ জানুয়ারি র্যাবের একটি দল কয়েকটি মাইক্রোবাসে করে অভিযানে যায় জঙ্গল ছলিমপুরে। সেখানে ‘মাইকে ঘোষণা’ দিয়ে র্যাব সদস্যদের ঘিরে ফেলে তিনজনকে আটকে ফেলে স্থানীয়রা। পরে তাদের পিটুনিতে গুরুতর আহত তিন জনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেয়ার পর র্যাবের উপ-সহকারী পরিচালক নায়েক সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।এ ঘটনায় র্যাব-৭ এর পক্ষ থেকে সীতাকুণ্ড থানায় ২৯ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি ১৫০-২০০ জন অচেনা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
র্যাব শনিবার জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে র্যাব ও পুলিশের অভিযানে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ জনকে র্যাব এবং ৭ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
প্রশাসনিক কাঠামোতে জঙ্গল সলিমপুরের অবস্থান সীতাকুণ্ড উপজেলার আওতায় হলেও ওই এলাকায় প্রবেশ করতে হয় চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানার বাংলাবাজার এলাকা দিয়ে। বায়েজিদ লিঙ্ক রোড দিয়ে ভাটিয়ারি যাওয়ার পথে ডান দিকে জঙ্গল ছলিমপুর।
খাস জমির ৩ হাজার ১০০ একর জুড়ে অবস্থান জঙ্গল ছলিমপুরের। টিলা কেটে গড়ে তোলা এ ঝুঁকিপূর্ণ বসতি পরিণত হয়েছে ‘দুর্ভেদ্য সাম্রাজ্যে’।
স্থানীয় লোকজনদের কেউ কেউ বলেন, ২০০৪ সালে থেকে সেখানে বসতি শুরু হয়। বর্তমানে ৮-১০ হাজার পরিবারে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস সেখানে। পুরো এলাকাকে ১১টি ‘সমাজে’ ভাগ করা হয়েছে ব্যবস্থাপনার সুবিধার জন্য।
এলাকাবাসীর দাবি, কম টাকায় ‘জমি কিনে’ সেখানে বসতি স্থাপন করেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ছিন্নমূল মানুষ। দেশের প্রায় সব জেলার মানুষই রয়েছে সেখানে, যাদের অধিকাংশ রিকশাচালক, ঠেলাগাড়ি চালক, দিনমজুর, হোটেল বয় ও গার্মেন্টম শ্রমিক।
বিভিন্ন সময়ে সেখানে অভিযানে ও সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে স্থানীয়দের হামলার শিকার হয় আইন
গত ৯ মার্চ সেখানে সেনাবাহিনী-বিজিবি-র্যাব-পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। যৌথ বাহিনীর অভিযানে একটি বিদেশি ও একটি দেশি পিস্তল, একটি এলজি, ২৭টি পাইপগান, পিস্তলের ৩০টি খালি ম্যাগাজিন, ৬১টি কার্তুজ, বিভিন্ন ধরনের ১১৬৪ রাউন্ড গুলি, ১১টি ককটেল, পাইপগান তৈরির লেদ মেশিনসহ অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয় এবং ২২ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছিল।