ঢাকা, শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬ ()

বিআরটিএ কার্যালয়ে সাংবাদিক লাঞ্ছিত

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া এলাকায় বিআরটিএ কার্যালয়ে মোটরযান চালকদের মাঠ পরীক্ষা চলাকালে দালালদের চাঁদাবাজি ও অনিয়মের ভিডিও ফুটেজ ধারণ করায় প্রথম আলো কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি ইকবাল হোসেনকে দালালেরা মুঠোফোন ভাঙচুরের চেষ্টা ও লাঞ্ছিত করেছে। আজ রবিবার দুপুর সাড়ে ১টার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে। 

সাংবাদিক ইকবাল হোসেন জানান, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া এলাকায় বিআরটিএ কার্যালয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার দুপুরে বিআরটিএর কার্যালয়ের মাঠে যানবাহন চালকদের মাঠ পরীক্ষার গ্রহণকালে দেখা গেছে, ৪/৫ জন বহিরাগত দালালেরা হাসনাবাদ রেন্ট এ কার লিখিত রশিদের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের সারিবদ্ধভাবে দাড় করিয়ে প্রতিজন পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছে। একপর্যায়ে এ চাঁদাবাজির বিষয়টি এক পরীক্ষার্থী এর প্রতিবাদ জানালে তখন দালালেরা তাকে টেনে হেচঁড়ে সারি থেকে বের করে দেয়। এ সময় তারা বলে তুমি পরীক্ষার সময় গাড়ি চালাও বা না চালাও ২০০ টাকা দিতেই হবে। না দিলে পরীক্ষা দিতে দিবো না।

এ অনিয়মের ঘটনাটি আমি ভিডিও ফুটেজ ধারণ করতে গেলে এ সময় দালাল চক্রের কয়েকজন সদস্য দৌড়ে এসে আমাকে ধাক্কা দিয়ে মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়। এরপর তারা আমাকে ধরে মাঠের একপাশে নিয়ে গিয়ে আমাকে বলে, তুই তোর মুঠোফোন থেকে ভিডিও ফুটেজ ডিলেট করবি না আমরা করুম। একপর্যায়ে আমি তাদেরকে সাংবাদিক পরিচয় দিলে তারা আমাকে বলে, সাংবাদিক হইসোস তো কি হইছে, এখান থেকে যাবি তোর মোবাইল ভাইঙ্গা ফালামু আর তোর হাত পা ভাইঙ্গা দিমু। একথা বলে তারা আমার মুঠোফোন থেকে ভিডিও ফুটেজটি ডিলিট করে দিয়ে বলে, যদি মাইর না খাইতে চাস তাহলে এখান থেকে পালিয়ে যা।

এ বিষয়টি বিআরটিএর ঢাকা দক্ষিণ সার্কেল কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামকে অবগত করলে তখন সে বলেন, বিষয়টি আমি দেখছি। দালাল চক্রের কেউ আমাদের কার্যালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারী নয়। এরা সবাই স্থানীয় লোকজন, এলাকার প্রভাবে তারা এখানে দালালি করে থাকে।


     এই বিভাগের আরো খবর