কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় ছয় বছরের এক কন্যাশিশুকে যৌন নিপীড়ন ও পাশবিক নির্যাতনের চেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত রোববার (২৪ মে) দুপুরে ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে অভিযুক্ত বৃদ্ধ আবদুর রশিদের (৭০) বিরুদ্ধে লাকসাম থানায় এই মামলাটি করেন। গত শনিবার (২৩ মে) দুপুরে উপজেলার খুন্তা গ্রামে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আব্দুল রশিদ পলাতক রয়েছে।
লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতনের চেষ্টার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ ঘটনার অধিকতর তদন্তসহ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
মামলার অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। ঘটনার দিন দুপুরে শিশুটির মা-বাবা দুজনেই বাইরে কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এই সুযোগে ঘরে ঢুকে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে একই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল রশিদ। এ সময় হঠাৎ শিশুটির মা ঘরে প্রবেশ করলে অভিযুক্ত রশিদ দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। তবে এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে রশিদের পক্ষে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ও সালিসের মাধ্যমে মীমাংসা করার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারটিকে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী শিশুটির মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি দুপুরে ঘরে ফিরে দেখি লোকটা আমার মেয়ের সাথে চরম অন্যায় করার চেষ্টা করছে। আমি এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।” অন্যদিকে, সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক চাপের মুখে থাকা শিশুটির বাবা বলেন, “এলাকার লোকজন বিচারে মীমাংসা করে দেওয়ার কথা বলায় প্রথমে মামলা করতে চাইনি। আমরা একই গ্রামে থাকি, এলাকার মাতব্বরদের কথার বাইরে যাওয়া আমাদের মতো গরিব মানুষের পক্ষে কঠিন।”
এদিকে, ঘটনার দিন শনিবার সন্ধ্যায় শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়েছিল। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। কিন্তু প্রভাবশালীদের চাপ বা অজ্ঞতার কারণে পরিবারটি প্রথমে শিশুকে ওসিসিতে না নিয়ে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে পুলিশ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শিশুটিকে উদ্ধার করে জবানবন্দি ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুমিল্লার আদালতে পাঠিয়েছে।