ফতুল্লায় বিকাশ ব্যবসায়ীর পাওনা ৫০ হাজার ফেরত দিয়ে ঘটনাস্থলেই ছিনতাই এবং হত্যা; অজ্ঞাতনামা আসামীদের রিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্তভার পুলিশ হেডকোয়ার্টাসের নির্দেশ পেয়ে রহস্য উদঘাটন করলো পিবিআই নারায়ণগঞ্জ, ০৬(ছয়) এর মধ্যে ০২ (দুই) জনের স্বীকারোক্তি।
গত ১১/১১/২০২৩ তারিখ আলীগঞ্জ রেল লাইন সংলগ্ন মাছের খামারের পুকুরের পানিতে ডিসিস্ট আতিকুল ইসলাম (৩৯) এর ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ শনাক্ত করা হয়। এ সংক্রান্তে ভিকটিমের চাচা জসীমউদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার মামলা নং- ২৪, তাং- ১১/১১/২০২৩ খ্রি:,ধারা- ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড রুজু করেন| থানা পুলিশ সূত্রোক্ত মামলাটি তদন্তকরাকালীন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এর নির্দেশে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ এর উপর মামলা তদন্তের ভার ন্যস্ত হয়। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান ।
তথ্য-প্রযুক্তির বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিসিস্ট আতিকুল ইসলাম(১৯) হত্যাকান্ডের মূল আসামী মো: শান্ত হোসেন (২৭),ফতুল্লা, নারায়নগঞ্জকে গত ১৩/০৫/২০২৬খ্রি: আলীগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। সে হত্যার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করে এবং উক্ত হত্যাকান্ডে জড়িত অন্যান্য আসামীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ন তথ্য প্রদান করে।
তার দেওয়া তথ্য মতে ফতুল্লাসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় গত ইং ১৪/০৫/২০২৬ তারিখে রাতভর অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সাথে জড়িত অপরাপর আসামী ২ নং মোঃ আহাদ আলী (২৩), ৩নং আসামী মোঃ রুবেল (৩২), ৪নং আসামী আশিক (২৩), ৫নং আসামী মোঃ জুম্মন (২৩) এবং ৬নং আসামী মোঃ জাহিদ হাসান শুভ (২৫) নারায়ণগঞ্জদেরকে আলীগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়|
তদন্তকালে জানা যায় যে, ডিসিস্ট আতিকুল ইসলাম গত ০৯/১১/২০২৩ তারিখ রাত্রি ২২:৩০ ঘটিকায় আলী সম্রাটের কথা মতো আলীগঞ্জ রেললাইন গেলে আলী সম্রাট ডিসিস্ট এর ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা প্রথমে ফেরত দেয়। কিন্ত আলী সম্রাট এর পুর্ব পরিকল্পনামাফিক অত্র মামলায় গ্রেফতারকৃত ১নং,২নং,৩নং ,৪নং, ৫নং ও ৬নং আসামীসহ অন্যান্য আসামীরা ডিসিস্ট আতিকুল ইসলাম এর নিকট থেকে আলী সম্রাট এর দেয়া ৫০,০০০ টাকাসহ ডিসিস্ট এর নিকট থাকা আরো টাকা জোর করে ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে আসামিগন তাদের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দ্বারা ডিসিস্ট আতিকুল এর পেটে, বুকে, ঘাড়ে আঘাত করে হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য আলীগঞ্জ রেল লাইন সংলগ্ন হাজী সাহাবুদ্দিন এর মাছের খামারের পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়।
পুলিশ রিমান্ড শেষে ১৭/০৫/২০২৬ তারিখ সকল আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করলে মূল আসামী শান্ত এবং মোঃ আহাদ আলী(২৩) স্বেচ্ছায় নিজের দোষ স্বীকার করে সিআরপিসর ১৬৪ ধারা মোতাবেক দোষ স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে|
মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত আছে।