কুষ্টিয়ায় অপারেশন টেবিলে মারা যাওয়া শিশু তাসনিয়া আফরিনের ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ কুমারখালী উপজেলার সানপুকুরিয়া গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে তাসনিয়া আফরিনের মরদেহ নিজ গ্রামে পৌঁছালে মা-বাবা ও আত্মীয় স্বজনের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারনা হয়। সন্ধায় জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়। সোমবার বিকেলে নিজ বাড়ি থেকে হেসে খেলে পিতা-মাতার সাথে ভাঙ্গা হাতের অপারেশন করাতে কুষ্টিয়া শহরের মোল্লাতেঘরিয়া এলাকার ‘একতা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ ভর্তি হওয়ার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অপারেশন থিয়েটারে অপারেশন শুরুর আগেই মারা যায় তাসনিয়া আফরিন। তাসনিয়ার স্বজনদের দাবী, চিকিৎসকদের অবহেলায় অপারেশনের পূর্বে আ্যানেসথেসিয়া দেয়ার পরই ৬ বছর বয়সী তাসনিয়া আফরিনের মৃত্যু হয়। তাসনিয়া আফরিন সানপুকুরিয়া গ্রামের তরিকুল ইসলামের মেয়ে।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৪-৫ দিন আগে বাড়ির সিড়ি থেকে পড়ে বাম হাত ভেঙে যায় তাসনিয়ার। স্থানীয়ভাবে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়। তাতে কোন ফল না হওয়ায় সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে তাসনিয়ার খালু আতিয়ার রহমান উন্নত চিকিৎসার জন্য ‘একতা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে আসেন। সেখানকার চিকিৎসক কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থপেডিক সার্জারী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ আব্দুল হাদীর পরামর্শে তার অপারেশনের জন্য সন্ধ্যা ৭ টায় তাসনিয়াকে নেয়া হয় অপারেশন থিয়েটারে। আ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক ডাঃ তাহেরুল-আল আমিন অপারেশনের পূর্বে তাসনিয়াকে আ্যানেসথেসিয়া দেয়ার পরপরই গুরুতর অসুস্থ হয়ে মারা যায় শিশুটি। এরপর ঘটনাস্থলে শিশুটির স্বজন, বিক্ষুব্ধ জনতা ও তাসনিয়ার পরিবারের সদস্যরা ক্লিনিকের ২ চিকিৎসককে আটক করে। এরপর বিক্ষুব্ধ জনতা ক্লিনিকে ভাংচুর করে। রাত ১২টার দিকে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ ঘটনায় অপারেশন করা ২ চিকিৎসককে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তাসনিয়া আফরিনের পরিবারের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের কথা বলা হলেও দুপুরের দিকে এই ঘটনায় কোন মামলা করবে না জানিয়ে ময়না তদন্ত লাশ গ্রহনের জন্য জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বরাবর আবেদন করে নিহত শিশুর পরিবার। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করার জন্য তাগাদা থাকায় শেষ পর্যন্ত তাসনিয়া আফরিনের লাশের ময়না তদন্ত করেই লাশ পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হয়। কুষ্টিয়া মডেল থানার ইনচার্জ কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, ময়নাতদন্ত শেষে শিশু তাসনিয়া আফরিনের মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ না থাকায় একটি ইউডি মামলা রুজু হয়েছে। সোমবার রাতে ঘটনার পর পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তা বিধানে তাদের পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়েছিলো। আজ (মঙ্গলবার) তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর এই মামলার বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।