গত ২৯/০৫/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ গজারিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি একটি অজ্ঞাতনামা মহিলা এর লাশ গজারিয়া থানাধীন টেংগারচর ইউ্নিয়নের বড় ভাটেরচর সাকিনের পশু ডাক্তার জনৈক সাইফুল ইসলাম এর বসত বাড়ির পূর্ব পাশে ফুলদী নদী হতে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে। পিবিআই, মুন্সীগঞ্জ জেলা ভিকটিমের পরিচয় সণাক্ত করে। ভিকটিমের নাম-হালিমা আক্তার (১৯), পিতা-মহাসিন বেপারী, মাতা-আয়েশা আক্তার, সাং-জামালদী, ইউপি-হোসেন্দী, থানা-গজারিয়া, জেলা-মুন্সীগঞ্জ। এই ঘটনায় ভিকটিমের বোন হোসনেয়ারা আক্তার বৃষ্টি বাদী হয়ে গজারিয়া থানার মামলা নং-৩৯, তারিখ-৩০/০৫/২০২৬ খ্রি: ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড দায়ের করে। গত ৩০/০৫/২০২৬ খ্রি. তারিখে পিবিআই মুন্সীগঞ্জ জেলা স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে এবং বর্তমানে এসআই (নিঃ) রনি দেবনাথ তদন্ত করছেন।
পিবিআই এর তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামী ১। আবু কালাম (৪৮), পিতা-আম্বর আলী, মাতা-ফুলমতী, সাং-উত্তর আব্দুল্লাহপুর, ডাক-আব্দুল্লাহপুর-২৩৭১, থানা-অষ্টগ্রাম, জেলা-কিশোরগঞ্জ, এপি-মজিবরের বাড়ির ভাড়াটিয়া, সাং-বড় ভাটেরচর, ডাক-মধ্য ভাটেরচর, সর্বথানা-গজারিয়া, জেলা-মুন্সীগঞ্জ, ২। মো: জামাল হোসেন (৪৪), পিতা-মো: ইছহাক আলী, মাতা-মিনোরা বেগম, সাং-বড় ভাটেরচর, ডাক-মধ্য ভাটেরচর-১৫১০, ৩। মো: রাসেল মিয়া(৪৪), পিতা-মো: ধন মিয়া, মাতা-ফিরোজা বেগম, সাং-বড় ভাটেরচর (শিকদারবাড়ি), ডাক-মধ্য ভাটেরচর-১৫১০, ৪। মো: আলামিন প্রধান(৫০), পিতা-মৃত মনির হোসেন, মাতা-মৃত ভারদিয়া, সাং-বড় ভাটেরচর, ডাক-মধ্য ভাটেরচর, সর্বথানা-গজারিয়া, জেলা-মুন্সীগঞ্জ’ সনাক্ত করে তাদের গজারিয়া থানাধীন বড় ভাটেরচর এলাকা হতে গত ৩০/০৫/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে এবং আসামীরা বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
তদন্তকালে প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণে ও আসামীদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি হতে জানা যায়, আবু কালাম এর নিকট ভিকটিম হালিমা আক্তার অনুমান ২৫,০০০/- টাকা ও আসামী রাসেল এর নিকট ভিকটিম ১০,০০০/- টাকা পেত এবং ভিকটিমের সাথে আসামী জামাল শারীরিক সম্পর্ক করার সময় জামাল এর নিকট আত্নীয় দেখে ফেলায় ভিকটিম তাদের সম্পর্কে কথা অন্যকোথাও বলে দিতে পারে তাহাতে জামাল এর এলাকায় মানসম্মান নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা থাকায় ভিকটিমকে টাকা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। ঘটনার অনুমান ১৫ দিন পূর্বে আসামী আবু কালাম, জামাল, রাসেল ও আলামিন গজারিয়ার হামর্দদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ভিকটিম হালিমা আক্তারকে মারার পরিকল্পনা করেন। উক্ত পরিকল্পনা মোতাবেক গত ২৬/০৫/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ সন্ধ্যার পর কৌশলে আসামীরা ডিসিস্ট হালিমা আক্তারকে ডেকে বড় ভাটেরচর নদীর পাশে ডেকে নিয়ে আসেন এবং একটি নৌকায় করে নদীর ওপারে চকের ভিতরে ভুট্টা ক্ষেতের মাঝখানে নিয়ে সবাই মিলে জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে গলায় ডিসিস্টের পরিহিত প্যান্ট/টাইস দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে ফাস লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ গোপন করার উদ্দেশ্যে নদীতে ফেলে দেয়।
মামলার তদন্ত অব্যহত রয়েছে।