মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় আট বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মো. আবু বাক্কার (৭০) নামের এক মুদি দোকানদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কলমা ইউনিয়নের বাশিরা এলাকায়। এ ঘটনায় লম্পট বৃদ্ধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় এলাকা।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুলাই সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বাশিরা এলাকায় নিজ মুদি দোকানের ভেতরে ওই শিশুটিকে ডেকে নেন আবু বাক্কার। এরপর দোকানপাটের আড়ালে নিয়ে তিনি শিশুটির ওপর যৌন নিপীড়ন চালান এবং ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় শিশুটি ভয়ে চিৎকার শুরু করলে লম্পট আবু বাক্কার তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করেন।
ঘটনার পর থেকে শিশুটি আতঙ্কে থাকলেও পরবর্তীতে বিষয়টি পরিবারের জানাজানি হয়। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার বাদী হয়ে লৌহজং থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করে। মামলা দায়েরের পর পরই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন।
লৌহজং থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পর পরই বাশিরা এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালায়। অভিযানকালে নিজ এলাকা থেকেই অভিযুক্ত মো. আবু বাক্কারকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত আবু বাক্কার বাশিরা এলাকারই স্থায়ী বাসিন্দা এবং পেশায় একজন মুদি দোকানদার।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর থেকে পুরো লৌহজং এলাকায় চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একজন ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধের এমন বিকৃত ও অমানুষিক আচরণে হতভম্ব স্থানীয়রা। এলাকাবাসী ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে লম্পট আবু বাক্কারের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।
লৌহজং থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার শিকার শিশুটির জবানবন্দি ও মামলার প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অপরাধী যত প্রভাবশালী বা বয়োবৃদ্ধই হোক না কেন, আইনের চোখে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আসামিকে দ্রুতই আদালতে সোপর্দ করা হবে।