নাটোরের বড়াইগ্রামে এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার বিকেলে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—বড়াইগ্রামের মালিপাড়া গোয়ালপাড়া এলাকার সামসুল ইসলাম (৬২) ও তাঁর ছেলে আরিফুল ইসলাম (৩০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরী স্থানীয় একটি মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা নেই এবং মা মানসিক প্রতিবন্ধী। তাদের বাড়ির পাশে সামসুল ইসলামের একটি চায়ের দোকান রয়েছে। বাবা ও ছেলে মিলে দোকানটি পরিচালনা করেন। গত নভেম্বর মাসে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই কিশোরীকে প্রথমবার ধর্ষণ করেন সামসুল ও আরিফুল। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে তাঁরা মেয়েটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। একপর্যায়ে কিশোরীটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।
ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টা ও সালিশ
স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি জানাজানি হলে গত ২০ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় মাতবররা গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করেন। ঘটনা ধামাচাপা দিতে সালিশে ১০ লাখ টাকা কাবিন ধার্য করে অভিযুক্ত আরিফুলের সঙ্গে ওই কিশোরীর বিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া কিশোরীর নামে ৪ শতাংশ জমি লিখে দেওয়া এবং অভিযুক্ত বাবা সামসুল ইসলামকে এলাকা ছাড়ার শর্ত দেন গ্রাম প্রধানরা।
তবে বাল্যবিয়ে ও ধর্ষণের মতো অপরাধ সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। পরবর্তীতে ওই কিশোরীর ভাই বাদী হয়ে বড়াইগ্রাম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বাবা-ছেলেকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের বক্তব্য:
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছালাম জানান, মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত বাবা ও ছেলেকে সোমবার গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।