ঢাকা, রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ()

তেল সংকটে বন্ধ হতে চলেছে বন্দরগুলো

Oplus_131072

জ্বালানি তেলের অভাবে যে কোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে বন্দর সেন্ট্রাল খেয়াঘাটের নৌকা ও ট্রলার চলাচল। এর ফলে ভোগান্তিতে পড়তে পারেন লক্ষাধিক মানুষ।

নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে বন্দর উপজেলাকে পৃথক করেছে শীতলক্ষ্যা নদী। জীবিকার তাগিদে এই নদী পার হয়ে প্রতিদিন বন্দর ঘাটসহ বিভিন্ন খেয়াঘাট দিয়ে লক্ষাধিক মানুষকে এপার-ওপার যাতায়াত করতে হয়।

এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল সংলগ্ন সেন্ট্রাল খেয়াঘাট দিয়েই বেশিরভাগ মানুষ পারাপার হন। এই পারাপারের অন্যতম বাহন হচ্ছে নৌকা ও বিআইডব্লিউটিএর ইজারাকৃত ট্রলার।

তবে এই ঘাটের ইজারাদার দিদার খন্দকার জানান, টোল সংগ্রহের হিসাবে দৈনিক এ ঘাট দিয়ে অন্তত ৩০ হাজার যাত্রী কেবল ট্রলার দিয়েই পারাপার হন। ঘাটটি প্রতি বছর ইজারা দেয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

তিনি বলেন, এতদিন পর্যন্ত যে জাহাজ থেকে তেল সংগ্রহ করা হতো, তা গত এক মাস ধরে বন্ধ আছে। কোথাও তেল পাচ্ছি না। গত কয়েক দিন ১২২ থেকে ১৩০ টাকায় ডিজেল কিনেছি; কিন্তু এ মুহূর্তে তেলের খুবই সংকট। এ ঘাটে সাতটি ট্রলার সকাল ছয়টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত টানা যাত্রী পারাপার করে।

যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় খেয়াঘাট দিয়ে শহর ও বন্দরের যাত্রীরা নিয়মিত পারাপার হন। ইঞ্জিনচালিত ট্রলারের পাশাপাশি নৌকা দিয়েও এ ঘাট পার হন লোকজন। ট্রলারে জনপ্রতি দুই টাকা এবং নৌকায় জনপ্রতি ১০ টাকা দিয়ে পার হন তারা।

শহরের নয়ামাটি হোসিয়ারি কারখানায় কাজ করেন বন্দরের সাবদি এলাকায় মোহাম্মদ হোসেন। তিনি বলেন, প্রতিদিন আসা যাওয়া বাবদ ২ টাকা করে চার টাকা দিয়ে আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে পার হতে পারি।

শহরের একটি মিষ্টির দোকানে কাজ করেন বন্দরের রূপালী আবাসিক এলাকার দুলাল দাস। তিনি বলেন, ট্রলার বন্ধ হয়ে গেলে প্রতিদিন ১০ টাকা করে ২০ টাকা দিয়ে আমাদের পারাপার হতে চাপ পড়ে যাবে।

ইজারাদার দিদার খন্দকার বলেন, বন্দর উপজেলার ইউএনও ১০০ লিটার তেলের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, যা আজকে পর্যন্ত চলবে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন ৭টি ট্রলার দিন রাত চালাতে ১৩০ থেকে ১৩৫ লিটার ডিজেল লাগে। তাদের কাছে যে পরিমাণ ডিজেল মজুত আছে তাতে শনিবার দুপুর পর্যন্ত ট্রলার চালানো সম্ভব। এ সময়ের মধ্যে নতুন মজুত না পেলে যাত্রী পারাপার ব্যাহত হবে।

এ ব্যাপারে বন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিবানী সরকার জানান, আপৎকালীন হিসেবে আমরা কিছু ব্যবস্থা নিয়েছি। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য ইজারাদারকে পরামর্শ দিয়েছি বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে। এছাড়াও ডিসি স্যারের সভাতেও বিষয়টি উত্থাপন করা হবে, যাতে জনভোগান্তি না হয়।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাকে অবগত করা হয়নি এখনো। ডিজেলের তো সংকট ওভাবে নেই। তারপরও প্রয়োজনে এ বিষয়ে আমরা প্রশাসন ও পাম্পে চিঠি দেব, সুপারিশ করব। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে আমরা বিকল্প ব্যবস্থা করব।


     এই বিভাগের আরো খবর