কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম এ বারিকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ (প্রত্যাহার) করা হয়েছে। মহাসড়কে কাভার্ডভ্যান থেকে ১৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে তা মাদক কারবারিদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে ক্লোজ করা হয়। একই সঙ্গে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে থানার এসআই মো. ইমাম উদ্দিন ও এএসআই হাফিজুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি (তদন্ত) শামসুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৭ জুন) রাতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি কাভার্ডভ্যান দাউদকান্দি টোলপ্লাজা ও ফায়ার সার্ভিসের সামনে পৌঁছালে পুলিশ সেটির গতিরোধ করে। ওই কাভার্ডভ্যানে ১৬০ কেজি গাঁজা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, নাইট ডিউটিতে থাকা এসআই ইমাম উদ্দিন ও এএসআই হাফিজুর রহমান কাভার্ডভ্যানটি চার ঘণ্টা আটকে রাখেন এবং উদ্ধার করা গাঁজা তিন মাদক কারবারির কাছে প্রতি কেজি ৬ হাজার টাকা দরে বিক্রি করে দেন। গাঁজা বিক্রির পর ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে কাভার্ডভ্যানটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনাটি সোমবার (২৯ জুন) সন্ধ্যায় জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্যমতে, শনিবার রাত ৮টার দিকে কাভার্ডভ্যানটি আটকে চালকের কাছ থেকে চাবি নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা বিভিন্ন জায়গায় ফোন করেন এবং সেখানে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে মাদক কারবারিদের আনাগোনা দেখা যায়। পরে একটি কালো মাইক্রোবাসে করে গাঁজাগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই মো. ইমাম উদ্দিন দাবি করেছেন, তিনি ঘটনার রাতে নাইট ডিউটিতে। থাকলেও গাঁজা উদ্ধার বা বিক্রির সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এএসআই হাফিজুর রহমান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
দাউদকান্দি থানার সদ্য বিদায়ী ওসি এম এ বারি ক্লোজ হওয়ার বিষয়টি সরাসরি স্বীকার না করলেও জানান, দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে।