কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কে দীর্ঘ বেহাল দশা: ভোগান্তি যখন নিত্যসঙ্গী, দেখার যেন কেউ নেই!
ইবি প্রতিনিধি:
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাব এবং হেভিওয়েট যানবাহন চলাচলের কারণে মহাসড়কটির বিশাল অংশজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত আর খানাখন্দ। অথচ এই চরম দুর্ভোগ নিরসনে কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে কাদার স্তূপ তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এই গর্তগুলো ছোটখাটো পুকুরে পরিণত হয়। বিশেষ করে ভারি মালবাহী ট্রাক ও বাস চলাচলের সময় এসব গর্তে চাকা আটকে গিয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যাচ্ছে ছোট যানবাহন, ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
এই সড়ক দিয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারী চালক ও যাত্রীদের অভিযোগের শেষ নেই।
“গাড়ির যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ১০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগছে।”
যাত্রীদের ভোগান্তি: অসুস্থ রোগী ও গর্ভবতী মায়েদের জন্য এই পথ এখন যন্ত্রণার অপর নাম। ধুলাবালি আর ঝাঁকুনিতে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। কাদা আর ধুলোয় সড়কের ধারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও জনজীবন অতিষ্ঠ।
মহাসড়কটির এই দীর্ঘমেয়াদী বেহাল দশায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তাদের প্রশ্ন, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি কেন দীর্ঘদিন ধরে এভাবে পড়ে আছে? জোড়াতালির সংস্কার কাজ করা হলেও তা কয়েক দিনের বেশি স্থায়ী হচ্ছে না। সাধারণ মানুষের দাবি— দ্রুত স্থায়ী ও টেকসই সংস্কারের মাধ্যমে এই মহাসড়ককে চলাচলের উপযোগী করা হোক।
কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক শুধু একটি রাস্তা নয়, এটি এই অঞ্চলের অর্থনীতির ধমনী। এই ধমনী সচল করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।