ঢাকা, শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬ ()
শিরোনাম

মেহেরপুরের পর এবার কুষ্টিয়াতেও চলছে অনলাইন জুয়ার রমরমা ব্যাবসা

মেহেরপুরের পর এবার কুষ্টিয়াতেও ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ছে ঘরে বসে পরিচালিত অনলাইন জুয়ার ব্যবসা। মোবাইল অ্যাপ, বেটিং সাইট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে একাধিক অনলাইন জুয়া চক্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, সহজে অর্থ উপার্জনের লোভ দেখিয়ে তরুণদের এই অবৈধ ব্যবসায় যুক্ত করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া শহর ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় স্বামী-স্ত্রী মিলে ঘরে বসেই অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে। তারা নিজেদের বাসাকে গোপন “কন্ট্রোল রুম” হিসেবে ব্যবহার করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিকাশ, নগদ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে খেলোয়াড়দের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে বিদেশি বেটিং সাইটে জমা দেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন নারীও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন আইডি ব্যবহার করে নতুন সদস্য সংগ্রহ করছেন। অনেক ক্ষেত্রে “নিশ্চিত লাভ” ও “বোনাস অফার” দেখিয়ে কিশোর ও তরুণদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জেলায় অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান জোরদার হয়েছে। মেহেরপুরে অনলাইন জুয়ার এজেন্টসহ একাধিক ব্যক্তিকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ।

এদিকে সিআইডির তথ্যমতে, দেশে সক্রিয় অনলাইন জুয়া চক্র প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন করছে এবং সেই অর্থের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার হচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অনলাইন জুয়ার কারণে পরিবারে অশান্তি, ঋণগ্রস্ততা ও সামাজিক অপরাধ বাড়ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও বেকার যুবকরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, “এখন অনেকেই ঘরে বসে মোবাইল দিয়ে জুয়ার ব্যবসা করছে। স্বামী-স্ত্রী মিলে এই কাজ করায় বিষয়টি আরও গোপনে পরিচালিত হচ্ছে।”

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনলাইন জুয়া ও অবৈধ ডিজিটাল লেনদেনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তারা।


     এই বিভাগের আরো খবর