কুষ্টিয়ার শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. এইচ. এস. কল্লোলের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা ও চিকিৎসাগত অবহেলার অভিযোগে দেড় বছরের শিশু রাফসানের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর সংবাদটির কাটিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর সাধারণ মানুষ, অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিক ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে মন্তব্য করতে শুরু করেন।অনেকেই নিজেদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে চিকিৎসা সেবার মান, আচরণগত সমস্যা এবং চিকিৎসাগত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল কুষ্টিয়া শহরের বৈশাখী ক্লিনিকে সাংবাদিক আমিন হাসানের দেড় বছরের ছেলে রাফসানকে ভর্তি করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, সেখানে ভুল চিকিৎসা ও উচ্চমাত্রার ওষুধ প্রয়োগের কারণে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২০ জুন রাতে শিশুটি মারা যায়।রাফসানের মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক অভিভাবক তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। মো. সুফি সুফি নামের এক অভিভাবক দাবি করেন, তার সন্তানকে চিকিৎসার নামে অপ্রয়োজনীয় ইনজেকশন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। মো. ইমরান খান নামের আরেক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, সামান্য ঠান্ডা-কাশির সমস্যায়ও শিশুদের অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হতো এবং চিকিৎসকের সহকারীদের আচরণও ছিল আপত্তিকর। রওশন আরা নামের এক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, তার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (স্পশাল চাইল্ড) সন্তানকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি অমানবিক আচরণের শিকার হন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অনেকেই ডা. কল্লোলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন। তবে এর বিপরীতে কিছু মানুষ চিকিৎসকের পক্ষেও মতামত দিয়েছেন। তাদের দাবি, ডা. কল্লোল ও তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে কুষ্টিয়ায় সুনামের সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। তারা রাফসানের মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানান। এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, আমি প্রশিক্ষণে ছিলাম। আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি এবং তারা কোনো আইনি ব্যবস্থাও গ্রহণ করেননি। অভিযোগ পেলে আমরা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখব। তদন্তে চিকিৎসাগত অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। ভুক্তভোগীদের বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তারা আমার কাছে আবেদন করলে অবশ্যই বিষয়টি তদন্ত করা হবে।” এদিকে সাংবাদিক আমিন হাসান বলেন, আমরা খুব শিগগিরই সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করব। আমি আমার সন্তানের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।তবে এব্যাপারে চিকিৎসক ডা. এইচ. এস. কল্লোলের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একটি নিষ্পাপ শিশুর অকাল মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার চিকিৎসা ব্যবস্থার মান, জবাবদিহিতা এবং চিকিৎসকদের আচরণ নিয়ে স্থানীয় জনমনে নতুন করে প্রশ্ন ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।