উপযুক্ত দাম তো দূরের কথা, চামড়া নেওয়ার মতো কোনো পাইকারি ক্রেতা বা বেপারি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত শতাধিক গরুর চামড়া নদীতে ফেলে দিয়েছেন দুই মৌসুমী ব্যবসায়ী।
শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের মোমারিজপুর গ্রামের কাটাখালি নদীতে চামড়াগুলো ফেলে দেওয়া হয়। ওই দুই মৌসুমী ব্যবসায়ী হলেন, দাগনভূঞা উপজেলার মমারিজপুর গ্রামের খুরশিদ আলম ও দিদারুল আলম। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, উপজেলার মাতুভূঞা এলাকার একটি সেতু থেকে কয়েকজন ব্যক্তি নদীতে গরুর চামড়া নিক্ষেপ করছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে বাড়তি আয়ের আশায় মারিজপুর গ্রামের খুরশিদ ও দিদারুল উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে শতাধিক গরুর চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন। আশা ছিল, পাইকারদের কাছে এসব চামড়া বিক্রি করে নিজেরা কিছুটা লাভবান হবেন। কিন্তু রাত জেগে বসে থেকেও শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত কোনো পাইকারি ব্যবসায়ীর দেখা না পেয়ে চামড়াগুলো নদীতে ফেলে দেন তারা।
ঘটনার খবর পেয়ে দাগনভূঞা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলম অভিযুক্ত ব্যবসায়ীদের বাড়িতে যান। তিনি পরিবেশ দূষণের বিষয়টি তুলে ধরে তাদের কাছে ব্যাখ্যা চান।
এ সময় ব্যবসায়ীরা নিজেদের ভুল স্বীকার করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ক্ষমা চান। তারা জানান, লোকসানের কারণে হতাশ হয়ে এমন কাজ করেছেন এবং পরিবেশের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সচেতন ছিলেন না।
ব্যবসায়ী খুরশিদ আলম বলেন, ‘আমরা না জেনে, না বুঝে নদীতে চামড়া ফেলেছি। এটা করা উচিত হয়নি। এটি যে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, তা আমরা জানতাম না। এমন ভুল আর কখনো করব না।’
দাগনভূঞা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলম বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ক্ষমা চেয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এমন অপরাধমূলক কাজ করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মূলত লোকসানের কারণে তারা এমন কাজ করেছেন। তারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে আমরা তাদের সহযোগিতা করতে পারতাম।’