রাজধানী ঢাকার মিরপুরে হযরত শাহ আলী বোগদাদী (রহ.)-এর মাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাজার ও খাদেম-ভক্তদের ওপর হামলার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের স্মৃতিধন্য কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়া। বুধবার (২০ মে) দুপুরে ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়ির মূল ফটকের সামনের সড়কে হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ‘সার্বজনীন গুরুবাদ ভক্ত ও আশেকান বৃন্দ’র ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে কুষ্টিয়া ও আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শত শত বাউল, সাধু, আশেকান ও লালন অনুসারী ব্যানার হাতে অংশ নেন। দুপুরের তীব্র রোদ উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসা বাউল ও সাধুরা দেশের মাজার সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ওপর চলমান হামলার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান। প্রতিবাদ সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, ডাক্তার শামছুল আলম, ওস্তাদ রতন শাহ, হৃদয় শাহ, আলী শাহ, ফকির মামুন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, আকলিমা বাউল, আলেয়া বাউল, ঝর্ণা বাউল, আলী আহসান তুফানসহ প্রমুখ লালন অনুসারী। এসময় ডাক্তার শামছুল আলম তার বক্তব্যে বলেন, লালনের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে সাধু-সন্ন্যাসী এবং মাজারের ওপর এমন নগ্ন হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। ফকির হৃদয় শাহ বলেন, মানুষ ভোজলে সোনার মানুষ হবি, এই মানুষে আছেরে মন যারে বলে মানুষ রতন, তাই আজকে মানুষ না চিনে মানুষের সাথে সৌহার্দপূর্ণ আচরণ বজায় না রেখে মনুষ্যত্ব থেকে সড়ে এসে নিজের ভেতরের পশুত্বকে বিকিয়ে দিয়ে যারা মানুষের ওপর মাজারে হামলা মানুষের ওপর হামলা নির্যাতন করে। যে কাজটি প্রশাসনের সে কাজ অন্যরা করছে আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। আমরা চাই যদি মানুষ হতে চাই তবে কোন মাজার নয় কোন মন্দির নয় কোন মানুষের মনে আঘাত নয়, পুড়িয়ে নয়, কুপিয়ে নয় মানুষের মনের মধ্যে বোধকে জাগ্রত করতে পারি। তবেই মানুষ মানুষকে ভালোবাসবে। সমাবেশে ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি সুনির্দিষ্ট উগ্র মৌলবাদী চক্র পরিকল্পিতভাবে দেশের হাজার বছরের মাজার সংস্কৃতি ও সুফি ঘরানার ওপর আঘাত হানছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভক্ত ও খাদেমদের ওপর বর্বর নির্যাতন চালানো হচ্ছে, যা কোনো সভ্য সমাজে চলতে পারে না। বাউল ও সাধুরা অবিলম্বে মিরপুরের শাহ আলী বোগদাদীর মাজারসহ দেশের সকল মাজার ও ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। একই সাথে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অতি দ্রুত এই অপশক্তির দোসরদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেওয়া হলে, আগামীতে দেশব্যাপী আরও কঠোর ও রাজপথ কাঁপানো কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।