ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নিরাপদ যাতায়াত ও নারী নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড় ধরণের প্রশ্ন উঠেছে। গত সোমবার রাতে দিল্লির রানীবাগ এলাকায় একটি চলন্ত স্লিপার বাসে এক নারীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে আজ বৃহস্পতিবার বাসটির চালক ও তার সহকারীকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। ২০১২ সালের সেই কুখ্যাত ‘নির্ভয়া’ কাণ্ডের স্মৃতি জাগিয়ে তোলা এই ঘটনাটি পুরো শহরজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
আইএএনএস (IANS) এবং পুলিশি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১১ মে রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন ভুক্তভোগী ওই নারী। তিনি মঙ্গলপুরীর একটি কারখানায় কর্মরত এবং পিতমপুরার একটি বস্তিতে বসবাস করেন। ঘটনার রাতে সরস্বতী বিহারের একটি বাসস্টপেজে একটি স্লিপার বাস থামলে ওই নারী বাসের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তির কাছে সময় জানতে চান। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই মুহূর্তেই তাকে জোরপূর্বক বাসের ভেতরে টেনে তোলা হয়। অভিযুক্তরা দ্রুত বাসটি নাংলোই এলাকার দিকে নিয়ে যায় এবং সেখানে চলন্ত বাসের ভেতর তাকে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ করা হয়।
পুলিশ জানায়, তিন সন্তানের জননী ওই নারী ঘটনার পর দ্রুত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই ভুক্তভোগীর শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে এবং একটি এফআইআর (FIR) নথিভুক্ত করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় অভিযুক্ত চালক ও তার সহযোগীকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বাসটি জব্দ করেছে এবং এই অপরাধে আর কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দিল্লিতে বাসের ভেতর গণধর্ষণের এই ঘটনাটি স্বাভাবিকভাবেই ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বরের সেই মর্মান্তিক স্মৃতিকে সামনে নিয়ে এসেছে। সে সময় ‘নির্ভয়া’ নামের হ এক মেডিকেল শিক্ষার্থীকে চলন্ত বাসে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও অমানবিক নির্যাতনের পর রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনা পুরো বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল এবং ভারতজুড়ে ব্যাপক গণ-আন্দোলনের জন্ম দিয়েছিল। এক যুগ পার হওয়ার পরও একই ধরণের অপরাধের পুনরাবৃত্তি নারী নিরাপত্তা নিয়ে কর্তৃপক্ষের দীর্ঘমেয়াদী ব্যর্থতাকে প্রকট করে তুলছে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।