চুয়াডাঙ্গায় সদর উপজেলার দৌলাতদিয়াড়ে ইজিবাইক যাত্রীদের ওপর বাস মালিক সমিতির কথিত ‘লাঠিয়াল’ বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার উত্তাল হয়ে ওঠে ভালাইপুর মোড়। বিক্ষুব্ধ জনতা চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করলে দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে হিমশিম খেতে হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলুকদিয়া ইউনিয়নের ঝোড়াঘাটা গ্রামের নাঈম, আব্দুল্লাহ ও মামুনসহ কয়েকজন যুবক একটি ইজিবাইক রিজার্ভ করে চুয়াডাঙ্গা শহরে একটি হালখাতা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যান। অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে দৌলাতদিয়াড় এলাকায় পৌঁছালে বাস মালিক সমিতির নিয়োগকৃত লাঠিয়াল বাহিনী তাদের গতিরোধ করে। যাত্রীরা নিজেদের ব্যক্তিগত ভ্রমণের কথা জানালেও কোনো কথা না শুনেই লাঠিয়ালরা তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, জিআই পাইপ, রড ও লাঠি দিয়ে তাদের বেধড়ক মারধর ও জখম করা হয়। মারধরের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত গ্রামবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে ভালাইপুর মোড়ে অবস্থান নেন। তারা সড়কে আড়াআড়িভাবে বাস থামিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা রিংকি পরিবহনের এক চালককে মারধরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাস থেকে নামিয়ে গণধোলাই দেয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। অবরোধের ফলে সড়কের দুপাশে দূরপাল্লার বাসসহ শত শত যানবাহন আটকে পড়ে, এতে নারী ও শিশুসহ সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। খবর পেয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় আলুকদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান, সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দীন লাড্ডু, জহুরুল ইসলাম জীবনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়ে বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগামী দুই দিনের মধ্যে বিষয়টির স্থায়ী সমাধান এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভালাইপুর এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, দৌলাতদিয়াড় মোড়ে বাস মালিক সমিতির নামধারী কিছু মাস্তান দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম চালাচ্ছে। রোগী বহনকারী যান বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে রিজার্ভ করা অটোরিকশা থেকেও যাত্রীদের জোরপূর্বক নামিয়ে দেয়া হয়। প্রতিবাদ করলে জোটে শারীরিক লাঞ্ছনা। প্রশাসনের নির্লিপ্ততার সুযোগে এই ‘লাঠিয়াল সংস্কৃতি’ এখন বিষফোঁড়ায় পরিণত হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ‘উত্তেজিত জনতাকে বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে বাস মালিক সমিতি ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করে একটি স্থায়ী সমাধান করা হবে। বর্তমানে দৌলাতদিয়াড়ে কোনো যানবাহনে বাধা সৃষ্টি না করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’