জ্বালানিসংকটের কারণে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দেশে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি হতে পারে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। এতে লোডশেডিং বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিদ্যুৎ বিভাগ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ধরা হয়েছে ১৭ হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন হতে পারে প্রায় ১৪ হাজার মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াটে।
বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব উম্মে রেহানা বলেন, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা পর্যাপ্ত থাকলেও গ্যাস ও জ্বালানির স্বল্পতার কারণে উৎপাদন করা যাচ্ছে না। বুধবার (২২ এপ্রিল) গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে ৫ হাজার ২৭৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে, যেখানে মোট উৎপাদনক্ষমতা ১২ হাজার ১৫৪ মেগাওয়াট। অর্থাৎ গ্যাসসংকটের কারণে অর্ধেকেরও কম উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।
তিনি জানান, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে দৈনিক প্রায় ২০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। এমনকি ১২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা গেলেও প্রায় ৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হতো। বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৮৫ থেকে ৯০ কোটি ঘনফুট গ্যাস।
উৎপাদন ব্যয় কম রাখতে ব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র কম ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও শিল্পকারখানার সম্প্রসারণের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। তবে জ্বালানিসংকটের কারণে সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।
বুধবার দেশের বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৭৬৭ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ৬৮১ মেগাওয়াট। ফলে প্রায় ২ হাজার ৮৬ মেগাওয়াট ঘাটতি থেকে লোডশেডিং করতে হয়েছে।
অন্যদিকে কয়লাভিত্তিক ৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। এটি আগামী ২৬ এপ্রিল উৎপাদনে ফিরতে পারে। এছাড়া বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টের একটি ইউনিটে বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের কারণে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম সরবরাহ হচ্ছে, যা ২৮ এপ্রিল থেকে স্বাভাবিক হতে পারে। আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে মোট প্রায় ১ হাজার ৯৮২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।