ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ()

শুরু হতে যাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লালন শাহ সেতু পর্যন্ত ফোর লেন রাস্তার কাজ

কুষ্টিয়ার রুপকার মাহবুব -উল আলম হানিফ এমপির দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে চলেছে। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লালন শাহ সেতু পর্যন্ত ফোর লেনের কাজ। এ কাজ বাস্তবায়ন করতে প্রাক্কলিন ব্যয় ধরা হয়েছে ৫শ ৬৯ কোটি টাকা। এ প্রকল্পটি তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে ৩শ ৫ কোটি টাকা ব্যায়ে বটতৈল থেকে ত্রীমোহনী মোড় পর্যন্ত ১০ কিঃ মিঃ হবে ফোর লেন এবং ১শ ১০ কোটি টাকা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বটতৈল পর্যন্ত এবং ১শ ৬০ কোটি টাকা ব্যায়ে ত্রীমোহনী থেকে লালন শাহ সেতু পর্যন্ত ২ লেনের কাজ করা হবে।

পরিকল্পনা বিভাগের এনইসি একনেক ও সমন্বয় অনুবিভাগের সিনিয়র সহকারী প্রধান তাহমিনা তাছলীম স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন কুষ্টিয়ার উন্নয়নের রুপকার ও আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এমপি। তিনি বলেন, কুষ্টিয়াবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বটতৈল টু লেন এবং বটতৈল থেকে ত্রীমোহনী ফোরলেন এবং ত্রীমোহনী থেকে বারমাইল পর্যন্ত টু লেন নির্মাণের কাজ শেষ হলেই কুষ্টিয়া শহরের সৌন্দর্য্য যেমন বৃদ্ধি পাবে।

জানা যায়, গত ২৬ নভেম্বর ২০১৯ খ্রীঃ তারিখে একনেকের সভায় ৫শ ৭৪ কোটি টাকা ব্যায়ে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া-পাকশী-দাশুরিয়া জাতীয় মহাসড়ক এর ৩ শ ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কুষ্টিয়া শহরাংশে-৪ লেনের উন্নীতকরণসহ অবশিষ্ঠাংশসহ যথাযথ মানে উন্নীতকরণ প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হয়। পরবর্তিতে গত ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রীঃ তারিখে প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। ওই সভায় ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া-পাকশী-দাশুরিয়া জাতীয় মহাসড়ক এর কুষ্টিয়া শহরাংশ-৪ লেনে উন্নীতকরণসহ অবশিষ্টাংশ যথাযথ মানে উন্নীতকরণ শীর্ষক সম্পুর্ণ প্রকল্পটি জিওবি অর্থায়নে ৫৭৪.১৬৯০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ৩১ জুলাই ২০১৯ হতে ৩০ জুন ২০২২ পরিবর্তে ০১ জানুয়ারী ২০২০ হতে ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩শ ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কুষ্টিয়া শহরাংশে-৪ লেনে কুষ্টিয়া শহরের বটতৈল থেকে মজমপুর গেট হয়ে ত্রীমোহনী মোড় পর্যন্ত ১০ কিঃ মিঃ সড়কের উভয় পাশে বৃক্তরোপন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজের গুণগত মান রক্ষায় প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে মর্মে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

এ ছাড়া এই জাতীয় মহাসড়কের বটতৈল থেকে ত্রীমোহনী মোড় পর্যন্ত সড়কের দুপাশে ২০ কিঃ করে ড্রেন কাম ফুটপাতও থাকবে। সড়কের মাঝে ডিভাইডার, লাইট, ফুলের বাগান এবং মজমপুর গেটে ট্রাফিক আইল্যান্ডের পরিবর্তে থাকবে মানুষবিহীন অত্যাধুনিক অটো সিগন্যাল। এ প্রকল্পের দাপ্তরিক কাজ ইতিমধ্যেই শেষ করা হয়েছে। বটতৈল থেকে ত্রীমোহনী মোড় পর্যন্ত আড়াই কিঃমিঃ’র মধ্যে বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। সড়কের কোল ঘেষে গাছপালা, আবাসিক বাড়ী, মার্কেট, ওয়াল, কিছু কিছু জায়গায় বহুতল ভবনও রয়েছে। মজমপুর গেট থেকে ত্রীমোহনী পর্যন্ত পুলিশ লাইন, জেলা ও দায়রা জজ সাহেবের বাসভবন বেশ কিছু গুরুত্বপুর্ণ স্থাপনা রয়েছে। সওজ বিভাগ সে সব বিষয় মাথায় রেখে প্রকল্পের কাজ শুরু করবে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া বটতৈল থেকে চৌড়হাস, উপজেলা মোড়, কাষ্টমস্ মোড়, মজমপুর গেট, মঙ্গলবাড়িয়া ও ত্রীমোহনী মোড়সহ এই ১০ কিঃ মিঃ সড়কের কোল ঘেষে রয়েছে কয়েক হাজার দোকান, মার্কেট, আবাসিক বাড়ীসহ বেশ কিছু স্থাপনা। সওজ বলছে, এসব স্থাপনা অপসারণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেছে। শহরের সৌন্দর্যবৃদ্ধিসহ কুষ্টিয়া বাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ যানজট থেকে মুক্তি দিতেই সরকার এই প্রকল্প গ্রহন করেছে বলে জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানিমুল হক জানান, পুরো কুষ্টিয়া জেলাকে জাতীয় মহাসড়কে অর্ন্তভুক্ত করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে কুষ্টিয়া সওজ বিভাগ কাজ করে আসছে। ইতিমধ্যে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজ শেষের হয়েছে। একই সাথে কুষ্টিয়া মেহেরপুর, কুষ্টিয়া-পাকশী-দাশুরিয়া-কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ জাতীয় মহাসড়কের কাজের সাথে সাথে কুষ্টিয়া শহরের বটতৈল থেকে মজমপুর গেট হয়ে ত্রীমোহনী মোড় পর্যন্ত ৪ লেনের কাজ খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে। এ জন্য সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩শ ৫ কোটি টাকা।

তিনি জানান, সড়কের পাশে বৃক্ষরোপন, মাঝে ডিভাইডার, স্টিল লাইট রয়েছে। মজমপুর গেট মোড়ের প্রস্ততাবৃদ্ধিসহ ১০ কিঃ মিঃ সড়কটি বর্তমানের ৩৪ ফিটের পরিবর্তে ৭৮ ফিটে উন্নীতকরণ করা হবে। দুপাশে ২০ কিঃ মিঃ ড্রেন কাম ফুটপাত থাকছে। ধীর গতির যানবাহনের জন্য আলাদা লেন হবে। রোডের গুরুত্বপূর্ণ স্থান গুলোতে বাসস্ট্যান্ড রয়েছে। আলাদা করে বাসের জন্য লেন করা হবে। সেই সাথে যাত্রী ছাউনি থাকবে। বটতল, মজমপুর ও ত্রীমোহনী মোড় গুলো ঢালাই রাস্তা হবে। এ ছাড়া মজমপুর গেটে দুটি মনুমেন্ট থাকবে তার মধ্যে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, লালন শাহ, কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদারসহ, ৬ জনের মুর‌্যাল থাকবে। এটি প্রায় ২৯ ফিট উচ্চতা হবে।

তিনি আরো বলেন, কাজের গুণগত মান নিয়ে কোন আপোষ থাকছে না। কেননা যে সকল ঠিকাদাররা এখানে কাজ করবেন তাদের ল্যাব্রটেরী ফ্যাসিলিটিজ, ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাসিলিটিজ আমরা ইনশিওর করেছি। এবং ইট, খোয়া, পাথর, বিটুমিনসহ যে কোন ধরণের মেটারিয়াল পরীক্ষা-নিরিক্ষা করেই ব্যবহৃত হবে বলে তিনি জানান।


     এই বিভাগের আরো খবর