এস,এম রাহাত হোসেন ফারুক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি ঃ রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে মন্দির না থাকলেও ভূয়া নাম ব্যবহার করে একাধিকবার সরকারী অনুদান গ্রহণ করার অভিযোগ উঠেছে।
বালিয়াকান্দি উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও মাজবাড়ী জাহানারা বেগম কলেজের প্রভাষক নিতিশ চন্দ্র মন্ডলের উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের সাধুখালীর বাড়ীতে মন্দির না থাকলেও সাধুখালী যুগল কিশোর অঙ্গণ নামে ভূয়া মন্দিরের নাম ব্যবহার করে কয়েকদফা সরকারী অনুদান গ্রহণ করে। ২০২০ সালের দুর্গাপূজার বিশেষ অনুদান গ্রহণ করার পর বিষয়টি পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর সরকারী কোষাগারে ফেরত প্রদান করেন। কিন্তু ২০১৯ সালেও একই নাম ব্যবহার করে তার আপন ভাই সুকদেব মন্ডলের নামে ৫০০ কেজি সরকারী চাউল উত্তোলন করে আত্নসাৎ করেছেন।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা শাখার জেলা ত্রাণ ও পুনবার্সন কর্মকর্তা ( ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার হাবিবুল্লাহ গত ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর তারিখে শারদীয় দুর্গাপূজা ২০১৯ উদযাপন উপলক্ষে জিআর চাউল উপ-বরাদ্দ প্রদান করেন। ওই বরাদ্দে বালিয়াকান্দি উপজেলার ১৫টি মন্দিরের অনুকুলে ৭.৫০০ মেট্রিকটন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর উপ-বরাদ্দ প্রদান করেন। ওই বরাদ্দের ১০নং ক্রমিকে সাধুখালী যুগল কিশোর অঙ্গণের নাম রয়েছে। সেখানে সভাপতি হিসেবে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নিতিশ চন্দ্র মন্ডলের আপন ভাই সুকদেব মন্ডলের নাম রয়েছে।
অধ্যক্ষ রমেন্দ্রনাথ বাছাড়, ইউপি সদস্য গৌর চন্দ্র বিশ্বাসসহ এলাকার লোকজন বলেন,উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের সাধুখালী গ্রামে যুগল কিশোর অঙ্গণ নামে কোন মন্দির নেই। ২০২০ সালে মন্দিরের নামে যে চাউল বরাদ্দ নিয়ে ছিলেন তা সরকারী কোষাগারে ফেরত প্রদান করেছেন। আবারও শুনছি ২০১৯ সালেও বরাদ্দ নিয়েছেন। তাহলে এ চাউল কোথায় গেল। ২০২০ সালের চাউল ফেরত দিলো, তাহলে ২০১৯ সালের চাউলের কি হবে। আমরা সরকারী সম্পদ আত্নসাৎকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানাচ্ছি।
তারা আরো বলেন, সরকারী অর্থ আত্নসাৎ করে ফেরত দেবার পরও কিভাবে পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের পদে থাকে।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নিতিশ চন্দ্র মন্ডলের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আম্বিয়া সুলতানা বলেন, ২০২০ সালে অনুদান গ্রহণের অভিযোগ উঠায় তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় সরকারী কোষাগারে অর্থ ফেরত দিয়েছেন। ২০১৯ সালে সরকারী চাউল নিয়ে থাকলেও খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে কেউ অভিযোগ করেননি।