ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটে নিজের স্ত্রীকে পছন্দ না হওয়ায় বন্ধুদের সহায়তায় মাত্র ৫০ হাজার রুপিতে একটি মানব পাচার চক্রের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন এক ব্যক্তি। এখানেই শেষ নয়, পাচারকারীদের হাতে বন্দি থাকা অবস্থায় ওই নারী ভয়াবহ যৌন নিপীড়ন ও পাশবিক গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। গুজরাটের বানাসকান্থা জেলার পালানপুর ওয়েস্ট থানা পুলিশ এই চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক মানব পাচার ও গণধর্ষণ চক্রের হদিস পেয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধারসহ মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করেছে।
স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ মে ২০২৬ তারিখে বানাসকান্থার গণেশপুরা এলাকার বাসিন্দা নিকেশ প্যাটেল পালানপুর পশ্চিম থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন যে, তাঁর স্ত্রী নিখোঁজ হয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ প্রথাগত তদন্ত শুরু করে। শুরুতে নিকেশ নিজেকে একজন অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ও নিরুপায় স্বামী হিসেবে উপস্থাপন করে পুলিশের কাছ থেকে আইনি সহায়তা পাওয়ার অভিনয় চালিয়ে যান।
তবে পুলিশের নিখুঁত তদন্তের সঙ্গে সঙ্গে নিকেশের দেওয়া বয়ানে একাধিক গুরুতর অসংগতি ও বৈপরীত্য খুঁজে পান তদন্তকারী কর্মকর্তারা। নিখোঁজ হওয়ার সময় এবং ঘটনার বর্ণনায় গড়মিল ধরা পড়ায় তদন্তের তদারকি কর্মকর্তা উপ-পুলিশ সুপার (ডিএসপি) ডা. জিশ্নেশ গামিতের নির্দেশে নিকেশকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
টানা জিজ্ঞাসাবাদের মুখে এক পর্যায়ে নিজের সাজানো নিখোঁজ নাটকের আদ্যোপান্ত স্বীকার করেন। তিনি পুলিশকে জানান, স্ত্রীকে পছন্দ না হওয়ায় তাঁকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য বন্ধুদের সঙ্গে একটি জঘন্য নীল নকশা তৈরি করেছিলেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে তিনি নিজের স্ত্রীকে পাচারকারীদের কাছে হস্তান্তর করেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে পুলিশ জানায়, নিকেশ এবং তার তিন সহযোগী সঞ্জয় ঠাকোর, অশোক ঠাকোর ও শচীন দারবার মিলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভ্রমণের বাহানা করে ওই নারীকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা ক্রেতাদের কাছ থেকে ৫০ হাজার রুপি নিয়ে ওই নারীকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর পাচারকারীরা তাঁকে একটি গোপন আস্তানায় আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে।
স্বীকারোক্তির পরপরই পালানপুর ওয়েস্ট থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। নিখুঁত প্রযুক্তির সহায়তায় বন্দিশালা চিহ্নিত করে ভুক্তভোগী নারীকে অক্ষত অবস্থায় মুক্ত করা হয়। উদ্ধারের পর পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে ওই নারী তাঁর ওপর নেমে আসা অবর্ণনীয় ও লোমহর্ষক নির্যাতনের বিবরণ দেন। তিনি জানান, চারকারী চক্রের সদস্যরা তাঁকে গণধর্ষণ করে। পাশাপাশি তাঁর শরীরে থাকা মূল্যবান সোনার গহনাগুলো জোরপূর্বক কেড়ে নিয়ে পরবর্তীতে বাজারে বিক্রি করে দেয়।
ভুক্তভোগী নারীর এই ভয়াবহ ও করুণ জবানবন্দির ভিত্তিতে পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধির মানব পাচার, গণধর্ষণ, ডাকাতি ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের একাধিক কঠোর ও জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করেছে। এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় মূল পরিকল্পনাকারী স্বামী নিকেশ প্যাটেল এবং তাঁর তিন সহযোগীসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই আন্তর্জাতিক বা আন্তঃরাজ্য নারী পাচার চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে ধৃতদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।