ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬ ()
শিরোনাম
Headline Bullet এই জুনের ২৮ তারিখ থেকে চালু হচ্ছে ভারতীয় টুরিস্ট ভিসা Headline Bullet তদন্তে দূর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত আর এম ওর বিরুদ্ধে,তবুও কুষ্টিয়ায় বহাল তবিয়তে Headline Bullet ঝিনাইদহে হত্যা মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড Headline Bullet কুষ্টিয়া মাদক বিরোধী অভিযানে টাপেন্টাডল ও গাঁজাসহ আটক ৩ Headline Bullet দীর্ঘ ৩ যুগ পর বিশ্বকাপে মুখোমুখি ব্রাজিল আর্জেন্টিনা Headline Bullet কুষ্টিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৫ জনকে কারাদণ্ড Headline Bullet কুষ্টিয়ার জমি বিরোধের ঘটনায় আহত এক Headline Bullet আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের অভিযানে ৮ পিচ ইয়াবাসহ আটক এক Headline Bullet মেহেরপুরের গাংনীতে প্রায় ১২ লক্ষ টাকার মাদক উদ্ধার Headline Bullet কুষ্টিয়ায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে এলাকাবাসীর সোচ্চার এলাকাবাসী, বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

তদন্তে দূর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত আর এম ওর বিরুদ্ধে,তবুও কুষ্টিয়ায় বহাল তবিয়তে

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার পরও কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক পদে বহাল রয়েছেন ডা. আবদুল মন্নান। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সরকারি নথিতে অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার তথ্য উল্লেখ থাকলেও প্রায় এক বছর তিন দিন ধরে তিনি একই পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় স্বাস্থ্য প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা বাস্তবায়নের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সরকারি নথিপত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ৩০ জুলাই ২০২৫ তারিখে জারি করা এক আদেশে ডা. আবদুল মন্নান (আইডি-১১১১২৭) এর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা নং-১৩৮/২০২৫ দায়েরের তথ্য উল্লেখ করা হয়। আদেশ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে আউটসোর্সিং ও খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদারদের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা গ্রহণ, চিকিৎসক ও কর্মচারীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, ওষুধ কোম্পানিকে বিশেষ সুবিধা প্রদান এবং ই-জিপি পদ্ধতিতে আহ্বান করা দরপত্র বাতিল করে পছন্দের ঠিকাদারকে ম্যানুয়ালি কাজ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে।সরকারি নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এসব অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদনে প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু করা হয়। একই সঙ্গে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে জানতে চাওয়া হয়, কেন তার বিরুদ্ধে চাকরি থেকে বরখাস্তসহ উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিভাগীয় অভিযোগনামা জারির মাত্র সাত দিন আগে, ২২ জুন ২০২৫ তারিখে ডা. আবদুল মন্নান কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর থেকে তিনি টানা দায়িত্ব পালন করে আসছেন।অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্বাস্থ্য প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিভাগীয় মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও অভিযুক্ত কোনো কর্মকর্তা দীর্ঘ সময় একই পদে বহাল থাকলে সরকারি শৃঙ্খলা ব্যবস্থা ও সুশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তাদের মতে, বিভাগীয় কার্যক্রম চলমান থাকলেও জনস্বার্থে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. আবদুল মন্নান এর আগে সাংবাদিকদের বলেন, “বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন। বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে।” তবে অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয় বলে জানান। সর্বশেষ প্রতিবেদন প্রকাশের আগে তার সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।এদিকে, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে দায়িত্ব গ্রহণের পর তার বিরুদ্ধে নতুন করে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের ক্রয় কার্যক্রমে অনিয়ম, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্যাড ব্যবহার করে বিল প্রস্তুত করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মান অবনতির পেছনে প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা, তদারকির ঘাটতি এবং অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও একাধিক সূত্র তুলে ধরেছে। তবে এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ কিংবা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে। স্বাস্থ্য খাতের সুশাসন নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, সরকারি হাসপাতালে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিভাগীয় তদন্তের ফল দ্রুত নিষ্পত্তি, দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান জরুরি। অন্যথায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


     এই বিভাগের আরো খবর