ফরিদপুর প্রতিনিধি:
জাতীয় পর্যায়ে ‘অদম্য নারী পুরস্কার-২০২৬’ অর্জনকারী সমাজসেবী আফরোজা ইয়াসমিনকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও ক্রেস্ট প্রদান করে সংবর্ধনা দিয়েছে সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পূর্বগঙ্গাবর্দী আলোর দিশারী যুব সংঘ।
গত ২ এপ্রিল (শনিবার) সন্ধ্যায় ফরিদপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বগঙ্গাবর্দী এলাকার গণীর মোড়ে অবস্থিত সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে বর্ণাঢ্য এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মো: ইমারত হোসেন ইমান মোল্লার সভাপতিত্বে এবং ইকরামুল হাসান নিশানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজির আহমেদ তাবরীজ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর মহানগর কৃষকদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওহাব মাতুব্বর, কৃষকদলের সভাপতি লালমিয়া সর্দার, স্বেচ্ছাসেবকদলের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম মাখন এবং কৃষি কলেজের সাবেক ভিপি এনামুল হাসান গিয়াস।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আলোর দিশারী যুব সংঘের সভাপতি ইজাজ আহমেদ নাছির, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম মীর, সাবেক সভাপতি মামুন খান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম বিশ্বাসসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসী।
সংগঠনের সভাপতি ইজাজ আহমেদ নাছির বলেন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এ বছর সারা দেশ থেকে ৬ জনকে জাতীয় পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছে। তাঁদের মধ্যে একজন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং অন্যজন আমাদের ফরিদপুরের কৃতি সন্তান আফরোজা ইয়াসমিন। তাঁর এ অর্জনে আমরা গর্বিত। সমাজকল্যাণে তাঁর মতোই আমরা কাজ করে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও একসঙ্গে কাজ করতে চাই।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “তাঁর এ অর্জনে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। সকল ভালো কাজে আমি সবসময় তাঁর পাশে থাকবো।”
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আফরোজা ইয়াসমিনের এ অর্জন ফরিদপুরবাসীর জন্য গর্বের। তিনি আমাদের এলাকার এক গর্বিত ব্যক্তিত্ব। তাঁর সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে আমরা সবসময় পাশে থাকবো।”
উল্লেখ্য, আফরোজা ইয়াসমিনের জন্ম কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার গড়াই নদীর তীরবর্তী এক গ্রামে। তিনি বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জননী। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর পৌরসভার পূর্ব গঙ্গাবর্দী এলাকায় বসবাস করছেন।
বিয়ের পর থেকেই তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি বয়স্ক শিক্ষা, নিরক্ষরতা দূরীকরণ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিশু নির্যাতন প্রতিরোধসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। এছাড়া সেলাই ও হস্তশিল্প প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন।
সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘নারী’ ক্যাটাগরিতে তিনি জাতীয় পর্যায়ে ‘অদম্য নারী পুরস্কার-২০২৬’ অর্জন করেন। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, ঢাকা কর্তৃক প্রদত্ত এ সম্মাননা দেশের নারী উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণে তাঁর বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি।
উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী, সমাজকর্মী ও চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এবং প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল।
এ বছর মোট ৬টি ক্যাটাগরিতে ৬ জনকে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। এর মধ্যে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় অবদানের জন্য ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা পান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন তাঁর নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।