নিজের একটি ডাইং কারখানা গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন সুখন চৌধুরী। সেই স্বপ্ন পূরণে গ্রামের জমি বিক্রি করে ৫০ লাখ টাকা জমিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দুর্গাপূজা উপলক্ষে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার ছয় দিন পর নরসিংদীর ভাড়া বাসায় ফিরে দেখেন, ঘরের সবকিছু তছনছ। তাঁর অভিযোগ, বাসা থেকে চুরি হয়েছে কারখানা কেনার জন্য রাখা ৫০ লাখ টাকা ও স্ত্রীর আট ভরি স্বর্ণালঙ্কার।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) নরসিংদী শহরের সেবাসংঘ এলাকার নরেশ চন্দ্র সাহার সাততলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে চুরির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর আল মামুন।
ভুক্তভোগী পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, সুখন চৌধুরী গত পাঁচ বছর ধরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন। তিনি নরসিংদী সদর উপজেলার শেখেরচরের ইভা ডাইংয়ে কাজ করেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার গুহিয়ালা গ্রামে।
সুখন একটি ডাইং কারখানা কেনার পরিকল্পনা করেছিলেন। এ জন্য গ্রামের জমি বিক্রি করে পাওয়া ৫০ লাখ টাকা নরসিংদীর বাসার আলমারিতে রেখে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে গ্রামের বাড়িতে যান। ছয় দিন পর ফিরে এসে দেখতে পান, আলমারি ভাঙা এবং ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো। টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারও খুঁজে পাননি তাঁরা।
সুখন চৌধুরী বলেন, ‘একটি ডাইং কারখানা করার জন্য গ্রামের জমি বিক্রি করে ৫০ লাখ টাকা এনে বাসায় রেখেছিলাম। ডাইং কেনার কথাবার্তাও চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। স্ত্রীর গয়নাগুলোও সেখানে ছিল। আমরা বাসায় না থাকায় গত ছয় দিনের মধ্যে কোনো একসময় সব চুরি করে নিয়ে গেছে। একটা ডাইং করার সারা জীবনের স্বপ্নটা চোরেরা চুরি করে নিয়ে গেছে।’
তাঁর স্ত্রী পূরবী পণ্ডিত জানান, গত রোববার দুপুরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাসায় তালা দিয়ে তাঁরা গ্রামের বাড়িতে যান। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ফিরে এসে চাবি দিয়ে ফ্ল্যাটের দরজা খুলতে পারেননি। তালা কাটার পরও দরজা না খোলায় সন্দেহ হয় তাঁদের।
পরে বাসার পেছনে গিয়ে জানালার গ্রিল কাটা দেখতে পান তাঁরা। স্থানীয়দের সহায়তায় ওই গ্রিল দিয়ে ভেতরে ঢুকে সুখন ফ্ল্যাটের দরজা খুলে দেন। এরপর ঘরে ঢুকে আসবাব ও জামাকাপড় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে এবং আলমারি ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান তাঁরা।
এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে নরসিংদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সুখন চৌধুরী।
ওসি এম আর আল মামুন বলেন, ফ্ল্যাটে চুরির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।