কুষ্টিয়ার কুমারখালীর জগন্নাথপুর ইউনিয়নের চর জগন্নাথপুর গ্রামের মৃত ভাদু বিশ্বাসের ছেলে সামছুল(৪৫) এর বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবীতে তার স্ত্রীকে নির্যাতন করে মেরে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাবনার ভাড়রা ইউনিয়নের চরভবানীপুর গ্রামের আকাম উদ্দিনের মেয়ে দুই সন্তানের জননী খাদিজার (৪০) নয় বছরের বিবাহিত জীবনে তার স্বামীর যৌতুকের চাহিদা মেটাতে না পেরে অকালে প্রাণ দিতে হয়েছে বলে পরিবারের দাবী।
মামলার বাদী নিহতের ভাই হানিফ প্রামাণিক বলেন, নয় বছর আগে ত্রিশ হাজার টাকা যৌতুক ধার্য করে আমার বোনের সামছুলের সাথে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের টাকার জন্য চাপ দিত, মারধর করত। এভাবে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে গত নয় বছরে প্রায় দুই লক্ষ টাকা যৌতুক দেওয়া হয় সামছুলকে। এরপর হঠাৎ গত ২০ আগষ্ট খাদিজা আমাকে ফোন দিয়ে বলে ওরা আমাকে মারতেছে, তোমরা তাড়াতাড়ি পঞ্চাশ হাজার টাকা নিয়ে আস,নয়লে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।এমন খবর পেয়ে দ্রুত বোনের শ্বশুড় বাড়ি গিয়ে দেখি গলায় ফাঁস নেওয়া অবস্থায় ঘরের আড়ার সাথে ঝুলে আছে আমার বোন। এরপর অসু্স্থ অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন।সেখানে তার অবস্থার পরিবর্তন না হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনদিন পর সেখান থেকে রিলিজ দিলে পুনরায় কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে বৃহস্পতিবার বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে সামছুল ও তার পরিবারের লোকজন। খাদিজার মৃত্যু সমন্ধে সামছুলের চাচা সাবেক ইউপি মেম্বর জাবেদ আলী মুঠোফোনে বলেন, দোকান করা নিয়ে ওদের মধ্যে মারামারির একপর্যায়ে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টার কথা শুনেছি।তবে পরে কি হয়েছে জানিনা।
কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মজিবুর রহমান বলেন, যৌতুকের কারনে গলায় ফাঁস লাগিয়ে খাদিজার মৃত্যু হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে।লাশ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর আসল কারন জানা যাবে।তিনি আরো বলেন,এ ঘটনায় মামলা হয়েছে ।মামলা নং ২৪, তাং- ২৭-০৮-২০২০।