মেহেরপুরের বারাদী বাজারে তুচ্ছ ঘটনায় খেলনা পিস্তল দিয়ে প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানোর সময় স্থানীয়দের হাতে অবরুদ্ধ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তাঁদের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে অনলাইন জুয়া পরিচালনার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়।
ঘটনাটি ঘটে গত রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মেহেরপুর সদর উপজেলার বারাদী বাজারে।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন—মেহেরপুর সদর উপজেলার নতুন দরবেশপুর গ্রামের আবু সাইদের ছেলে সাব্বির আহমেদ (২২) এবং পিরোজপুর গ্রামের মোস্তফা কামালের ছেলে মো. মাফুজুর রহমান ওরফে শিপন (২৬)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে বারাদী বাজারে আড্ডা দেওয়ার সময় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ওই দুই যুবক খেলনা পিস্তল বের করে প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় লোকজন তাঁদের ঘিরে ফেলেন এবং বারাদী পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পিস্তলটি উদ্ধার করে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সেটি খেলনা পিস্তল বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ।
খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। এ সময় দুই যুবকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে অনলাইন জুয়া পরিচালনার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পায় পুলিশ।
অভিযানে তাঁদের কাছ থেকে দুটি আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সসহ মোট চারটি স্মার্টফোন, একটি মাল্টি-কারেন্সি ডেবিট কার্ড এবং অন্যান্য ডিভাইস জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মোবাইল ফোনের মধ্যে রয়েছে রুপালি রঙের একটি ও কমলা রঙের আরেকটি আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স (প্রতিটির আনুমানিক মূল্য দুই লাখ টাকা), সাদা রঙের একটি অপো এ১৫এস (মূল্য প্রায় ১৩ হাজার টাকা) এবং গ্লোয়িং গ্রিন রঙের একটি অপো এ৫৭ (মূল্য প্রায় ১৭ হাজার টাকা)। এছাড়া ‘SABBIR AHAMED’ নামের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের একটি মাল্টি-কারেন্সি ভিসা ডেবিট কার্ডও জব্দ করা হয়েছে। চারটি স্মার্টফোনের আনুমানিক মোট মূল্য চার লাখ ৩০ হাজার টাকা।
পরে জব্দ করা স্মার্টফোনগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা করে অনলাইন জুয়ার সাইট পরিচালনার সঙ্গে তাঁদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই যুবকের বিরুদ্ধে জুয়া প্রতিরোধ আইনে মেহেরপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে সন্ধ্যায় আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি প্রদীপ কুমার সানা জানান, খেলনা পিস্তল দিয়ে ভয় দেখানোর খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। এরপর দুই যুবকের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে অনলাইন জুয়া পরিচালনার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। জুয়া প্রতিরোধ আইনে মামলা দিয়ে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই অনলাইন জুয়ার চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।