
স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকারদের তালিকায় প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের নাম থাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ ও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম দেখে গোটা জাতি স্তম্ভিত ও ক্ষুব্ধ। তিনি ওই তালিকা বাতিল করে তালিকা প্রণয়নের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে খালেকুজ্জামান বলেছেন, বাসদের বরিশালের সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তীর বাবা বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট তপন কুমার চক্রবর্ত্তী ও তার ঠাকুরমা ঊষা রাণী চক্রবর্ত্তীর নাম প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। অথচ তপন কুমার চক্রবর্ত্তী সম্মুখ সমরের মুক্তিযোদ্ধা। তার পিতা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন। মন্ত্রণালয়ের গেজেটেও তিনি একজন তালিকাভুক্ত ও সম্মানী ভাতা প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। অথচ একই মন্ত্রণালয়ে তাঁকে কিভাবে রাজাকারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলো?
তিনি আরো বলেন, শুধু তপন কুমার চক্রবর্ত্তী নয়, বরিশালের বিশিষ্ট সাংবাদিক মিহির লাল দত্ত, রাজশাহীর বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা, ভাষা সৈনিক, একুশে পদক প্রাপ্ত, মানবতা বিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু, সিরাজগঞ্জের বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা, এক সময়ের জাসদ নেতা পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ নেতা, সাবেক এমপি লতিফ মির্জা ও সিরাজগঞ্জ জেলা জাসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা খুরশিদ আলমের নামও রাজাকারের তালিকায় রয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। যা শুধু দুঃখজনকই নয় বর্তমান সরকার ও মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের চরম দায়িত্বহীনতার প্রকাশ বলে আমরা মনে করি।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় একজন যোদ্ধার কাছে সবচেয়ে গৌরব এবং সম্মানের, অন্যদিকে রাজাকার শব্দটি বাংলাদেশে সবচেয়ে ঘৃণিত। কোনো মুক্তিযোদ্ধার নাম রাজাকারের তালিকায় থাকলে তার চেয়ে অপমানের কিছু হতে পারে না। এটা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সমগ্র দেশবাসীকে অপমাণিত করেছে। তাই অবিলম্বে বিভ্রান্তিকর, ভুলে ভরা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রণোদিত তথাকথিত রাজাকারের তালিকা বাতিল করে নতুন ও সঠিক তালিকা প্রণয়নের দাবি জানাই। একই সঙ্গে এই ভুয়া তালিকা প্রণয়নের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি।