এস,এম রাহাত হোসেন ফারুক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি ঃ রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের বারাদী গ্রামে চুরির অভিযোগে একজনকে আটকের পর অপর ৪জনকে বাড়ী থেকে ডেকে এনে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে থানা পুলিশ ৫জনকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে হেফাজতে নিয়েছেন।
উপজেলার বারাদী গ্রামের আরমান মন্ডলের ছেলে আফসার মন্ডল বলেন, বুধবার রাতে বারাদী গ্রামের মসজিদের নিকট কোরআন মাহফিল চলাকালে বাড়ীর সবাই ঘরে তালা মেরে সেখানে যান। রাত ১০টার দিকে আমার ছেলে সাগর মন্ডল ঘরের অদুরে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের বারাদী গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে মিজান (২৭) কে হাতেনাথে ধরে ফেলে। এসময় তার হাতে কোপ দিয়ে ছুটে চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। তারা আমার ঘরের টিনের বেড়াকেটে জানালা খুলে ভিতরে ঢুকে ৪ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৮৫ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। পরে মিজান তার সহযোগী উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের বারাদী গ্রামের বরকত আলী খানের ছেলে সবুজ খান (১৮), ছলিম সরদারের ছেলে আলেক সরদার (৩৫), রাজ্জাক পোটারের ছেলে রেজাউল (২৫) ও নারায়নপুর গ্রামের আব্দুল লতিফ মন্ডলের ছেলে আরজু মন্ডল (২৮) এর নাম প্রকাশ করলে তাদেরকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
মিজান জানায়, আমি ওই বাড়ীর পিছনে গাঁজা খাচ্ছিলাম। আমাকে ধরে মারধোর করে তাদের নাম বলার পর বাড়ী থেকে ডেকে এনে মারধোর করে।
আলেক সরদার জানায়, আমি কোন চুরির সাথে জড়িত নই। আমি মিষ্টির কাজ করি। আমাকে বাড়ী থেকে ডেকে এনে মারধোর করেছে। আমি সঠিক বিচার চাই।
সবুজ খানের বাবা বরকত আলী খান অভিযোগ করে বলেন, রাত ২টার দিকে আমার বাড়ী থেকে ছেলেকে ডেকে নিয়ে চোর অপবাদ দিয়ে রশি দিয়ে বেধে রেখে নির্মম নির্যাতন চালায়। আমার সাথে বসতবাড়ীর জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ থাকায় আমার ছেলেকে মিথ্যা চুরির অভিযোগ এনে ফাঁসাচ্ছে। আমি আইনের আশ্রয় নিবো।
বালিয়াকান্দি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন কুমার আদিত্য বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ৫জনকে এনে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। তদন্তপুর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।