চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পৃথক অভিযানে ESKUF সিরাপ, গাঁজা ও বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশনসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানে জীবননগর থানার মনোহরপুর ইউনিয়নের ধোপাখালী মন্ডলপাড়া এলাকায় শাহাদত মুল্ল্যা (৫৬)-এর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। তাঁর বসতঘরের দক্ষিণ-পূর্ব কোণের শয়নকক্ষের খাটের নিচ থেকে কোডিন ফসফেট মিশ্রিত ESKUF সিরাপের পাঁচ বোতল এবং এক কেজি ১৫ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ESKUF সিরাপের প্রতিটি বোতলে ১০০ মিলিলিটার করে মোট ৫০০ মিলিলিটার ছিল। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক মূল্য ৫০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
এ ছাড়া পৃথক অভিযানে আরিফুল মিয়ার কাছ থেকে ১০ গ্রাম, মো. সাগর হোসেনের কাছ থেকে ৫ গ্রাম গাঁজা এবং. কামরুল ইসলামের কাছ থেকে একটি বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন (এক অ্যাম্পুল) উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—জীবননগর উপজেলার ধোপাখালী মন্ডলপাড়ার শাহাদত মুল্ল্যা (৫৬), বেনীপুর মাঠপাড়ার আরিফুল মিয়া (২৬), খয়েরহুদা ঈদগাপাড়ার সাগর হোসেন (২৬) এবং চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শেখপাড়ার কামরুল ইসলাম (৫৩)।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক এস এম শাহিন পারভেজ বাদী হয়ে জীবননগর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালত, চুয়াডাঙ্গায় বিচারিক কার্যক্রম শেষে আরিফুল মিয়াকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড, সাগর হোসেনকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং কামরুল ইসলামকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের ডিডি মো. রফিকুল ইসলাম অভিযানের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।