কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ‘কমিশন দলিল’ সম্পাদনকে কেন্দ্র করে মারধর ও জোরপূর্বক জমি রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
দলিল লেখক কমিটির সভাপতি মোফাজ্জেল হক বাবলু মহুরির বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। একই সঙ্গে নিয়মিত রেজিস্ট্রি কার্যক্রম বন্ধ থাকা অবস্থায় সাব-রেজিস্ট্রারের অনুপস্থিতিতে কীভাবে ওই দলিল কার্যক্রম সম্পন্ন হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দৌলতপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। তাদের দাবি, জমি রেজিস্ট্রির জন্য ১৮ জন দলিলদাতাকে নয়টি দলিলের কাজে অফিসে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে জমির পরিমাণ, মূল্য এবং টাকা পরিশোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন তাদের মারধর করে জোরপূর্বক দলিল সম্পাদনের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগকারীদের একজন জানান, কহিনুর, দলিল লেখক কমিটির সভাপতি মোফাজ্জেল হক বাবলু, তার ছেলে ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের সঙ্গে মারধরে জড়িত ছিলেন। এতে তিনি আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তারা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে দেখতে পান সেদিন নিয়মিত দলিল রেজিস্ট্রির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এরপর ১৮ জন দলিলদাতার কাছ থেকে মোট কতটুকু জমি নেওয়া হচ্ছে, জমির মূল্য কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে তারা প্রশ্ন তোলেন। এ সময় তাদের ওপর হামলা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
ঘটনাটিকে ঘিরে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কয়েকজনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের দাবি, পুরো ঘটনার নেপথ্যে অফিসের ‘বড়বাবু’ বজলুর রহমান ও দলিল লেখক কমিটির সভাপতি মোফাজ্জেল হক বাবলুর ভূমিকা রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে ‘কমিশন দলিল’ কার্যক্রম নিয়ে। সংশ্লিষ্টরা ঘটনাটিকে কমিশন দলিল হিসেবে উল্লেখ করলেও এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত আবেদন, অনুমোদন ও বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে অভিযোগকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন।