ঢাকা, বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ()

কুষ্টিয়ায় প্রবাসী নারীকে নি’ষিদ্ধ পল্লিতে বিক্রির অভিযোগ

Oplus_131072

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল ইউনিয়নের কবুরহাট দোস্তপাড়ার সৌদি প্রবাসী মোছা. বেদেনা (৩৩)-কে নতুন কাজের কথা বলে নিয়ে গিয়ে অনৈতিক কাজে বাধ্য করা এবং অর্থের বিনিময়ে অন্যদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একই এলাকার রানী নামের এক নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বেদেনার পরিবার। মেয়েকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন তাঁর মা।

বেদেনার মায়ের অভিযোগ, পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে তাঁর দুই মেয়ে আঙ্গুরি ও বেদেনা জীবিকার সন্ধানে বিদেশে পাড়ি জমান। প্রথম দিকে তাঁরা নিয়মিত টাকা পাঠাতেন। সেই অর্থে ভালোভাবেই চলছিল তাঁদের সংসার।

তিনি জানান, পরবর্তী সময়ে প্রতিবেশী রানীকেও তাঁর মেয়েদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। তবে বিদেশে যাওয়ার পর বেদেনার সঙ্গে রানীর ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বেদেনা রানীকে দুই-একটি চড়-থাপ্পড় মারেন বলে দাবি করেন তাঁর মা।

বেদেনার মায়ের অভিযোগ, ওই ঘটনার জের ধরে রানী নতুন কাজের কথা বলে তাঁর মেয়েকে এক চালকের কাছে পাঠিয়ে দেন। এরপর থেকে মেয়ের সঙ্গে তাঁর আর সরাসরি যোগাযোগ হচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, রানীর মাধ্যমে ওই চালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে একপর্যায়ে কথা বলতে সক্ষম হন। তখন ওই চালক তাঁকে জানান, তাঁর মেয়েকে দুই মাসের জন্য ১২ জন পুরুষের কাছে এক লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হয়েছে। তবে চালকের এই বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

পরিবারের দাবি, ঘটনার পর এক মাস ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও বেদেনার সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। এদিকে, বেদেনাকে উদ্ধারের বিষয়ে রানীর পরিবারের পক্ষ থেকে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁর মা।

মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়ে বেদেনার মা বলেন, “আমার কলিজার ধনকে আমি আবার নিজের কাছে ফিরে পেতে চাই। প্রশাসন যদি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়, তাহলে হয়তো আমার মেয়েকে ফিরে পাব।”

তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে অভিযোগটি তদন্ত করে তাঁর মেয়ের অবস্থান শনাক্ত, নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি রানী, তাঁর পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং ভুক্তভোগী নারীকে নিরাপদে উদ্ধারের স্বার্থে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।


     এই বিভাগের আরো খবর