ঢাকা, রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬ ()

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা এবং জবাবে তেহরানের পাল্টা আঘাত

জ্বালানির দাম বাড়ছে, বাতিল হচ্ছে বন্ধকী (মর্টগেজ) চুক্তি এবং খাবার থেকে শুরু করে স্মার্টফোন সবকিছুরই দাম বেড়ে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা এবং জবাবে তেহরানের পাল্টা আঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আঘাতের ফল এরই মধ্যে টের পেতে শুরু করেছেন ভোক্তারা। এদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি গতকাল বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছেন যে হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে।বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় কৌশলগতভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ পথগুলোর একটি এই প্রণালি।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা তাদের মজুত থেকে ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি পরিমাণ জ্বালানি ছাড় করার পর তেলের দামে যে সাময়িক স্বস্তি এসেছিল, তা যে ক্ষণস্থায়ী সেটা প্রমাণিত হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন ইরানের ওপর হামলা জোরদার করেছে, তখন উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে পরিবহন অবকাঠামোগুলোয় হামলা আরও তীব্র হয়েছে।

তবে এই যুদ্ধের প্রভাব সব জায়গায় সমানভাবে পড়ছে না।অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল এশিয়া। জ্বালানি ঘাটতির কারণে বাংলাদেশ সব বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাকিস্তান বেশ কিছু স্কুল বন্ধ করে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমগুলো তাদের নিজেদের দেশের ওপর পড়া প্রভাব নিয়ে মেতে থাকলেও অন্য দেশগুলোকে তার চেয়ে চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে। এই যুদ্ধের কারণে বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র ও অসহায় ব্যক্তিরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এই যুদ্ধ নতুন একটি মানবিক সংকট তৈরি করেছে। ইরান ও লেবাননে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্টের তথ্যমতে, দেশটির বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের পাশাপাশি ১৭ হাজারেরও বেশি আবাসিক ভবন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


     এই বিভাগের আরো খবর