bbccrimenews:-বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ নাসিমের শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আরেকটি শোক সংবাদ শুনতে হলো সিরাজগঞ্জবাসীকে। মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে মারা গেলেন সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও ভাষা সৈনিক কামাল লোহানী।
কামাল লোহানী : সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার সোনতলা গ্রামের ঐতিহ্যবাহী লোহানী পরিবারের সন্তান কামাল লোহানী বাংলাদেশের
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছিলেন। গত শনিবার (২০ জুন) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
কামাল লোহানীর পুরো নাম আবু নঈম মোস্তফা কামাল খান লোহানী। তার বাবা মুছা আলী খান লোহানী ছিলেন জমিদার। লোহানী পরিবারটি সিরাজগঞ্জের অন্যতম সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পরিবার। কামাল লোহানী দৈনিক মিল্লাত, দৈনিক আজাদ, দৈনিক সংবাদ, দৈনিক বার্তাসহ বিভিন্ন পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের বার্তা প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশে ৯ মাস যুদ্ধের পর বিজয় মুহূর্তের খবরটি তার মুখেই উচ্চারিত হয়। ভাষা আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় বার বার গ্রেফতার হন এবং কারাবাস করেন তিনি। তিনি ছায়ানট সংস্কৃতি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি ছাড়াও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনে নেতৃত্ব দিয়ে এসেছেন। এ ছাড়াও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা ছিলেন। ২০১৫ সালে সাংবাদিকতায় একুশে পদক লাভ করেন।
মোহাম্মদ নাসিম : সিরাজগঞ্জের কুড়িপাড়া গ্রামে জন্ম নেওয়া মোহাম্মদ নাসিম বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাতীয় নেতা শহীদ এম মনসুর আলীর দ্বিতীয় সন্তান। ঠিক এক সপ্তাহ আগে শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১১টা ১০ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলী স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
মোহাম্মদ নাসিম দীর্ঘদিন জাতীয় রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। স্বৈরাচারবিরোধী সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্বে সর্বদাই সামনের কাতারে ছিলেন তিনি। জেল-জুলুম-হুলিয়া এমনকি রাজপথে পুলিশের লাঠিপেটাও সহ্য করতে হয়েছে নাসিমকে। টানা ৪ বারসহ মোট ৬ বারের সংসদ সদস্য নাসিম ১৯৯১ সালে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ৯৬ সালে দল ক্ষমতায় এলে প্রথমে ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একইসঙ্গে তিনি ১৪ দলের মুখপাত্রের দায়িত্বও পালন করেছেন। ২০১৪ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি ৫ বছর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।