ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ ()
শিরোনাম
Headline Bullet যারা আমার স্বামীকে মেরেছে, তাদেরকে খবর দাও আমাদেরও মেরে ফেলুক Headline Bullet থানায় ঢুকে পুলিশকে বাটাম দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধরের অভিযোগে যুবক আটক Headline Bullet কুষ্টিয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রীকে যৌন নিপিড়নের অভিযোগ Headline Bullet আলমডাঙ্গায় সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যু: ভুল চিকিৎসার অভিযোগ! Headline Bullet দামুড়হুদায় নাশকতা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার Headline Bullet প্রেমিকের আপত্তিতে দুই যমজ ছেলেকে গ’লা কেটে হ’ত্যা’র অভিযোগ, মা গ্রে’প্তার Headline Bullet শেরপুরে বিয়ের ৬ দিনের মাথায় গৃহবধূর মৃত্যু Headline Bullet কুষ্টিয়ায় হামও ডেঙ্গু জ্বরে ২৪ ঘন্টদয় ৫৯ জন Headline Bullet আলমডাঙ্গায় মাদক মামলায় স্বামী-স্ত্রী গ্রেফতার ও জামজামিতে সাজাপ্রাপ্ত পরোয়ানাভুক্ত আসামী আটক Headline Bullet কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে: বন্ধ চিনিকলগুলো দ্রুত চালু করা হবে

যারা আমার স্বামীকে মেরেছে, তাদেরকে খবর দাও আমাদেরও মেরে ফেলুক

Oplus_131072

‘যারা আমার স্বামীকে মেরেছে, তাদেরকে খবর দাও। আমাদেরকেও মেরে ফেলুক। স্বামীকে ছাড়া দুই মেয়েকে নিয়ে কীভাবে বাঁচব, কীভাবে চলব।’- স্বামী সাকের হোসেনের মৃত্যুর খবর পেয়ে এভাবেই বিলাপ করছিলেন স্ত্রী শারমিন খাতুন রুমা। তার আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালী গ্রামের বাড়ির পরিবেশ।

বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোরে মাগুরা বাস টার্মিনালে রয়েল এক্সপ্রেসের কাউন্টারের ভেতরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান সাকের হোসেন। তিনি মাগুরা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির এমন মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী রুমা। তাদের সংসারে রয়েছে ১১ বছরের মেয়ে সামিয়া ও ৬ বছরের মেয়ে মুনতাহা।

সাকেরের কর্মস্থল মাগুরা বাস টার্মিনালে রয়েল এক্সপ্রেসের কাউন্টার। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে কাউন্টার মাস্টার হিসেবে কাজ করছিলেন। আজ ভোরেও সেখানে কাজে গিয়েছিলেন তিনি। কাজ শেষে দুপুর ১২টার দিকে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না। স্বামীর অপেক্ষায় থাকা রুমার কাছে ফিরল তার নিথর দেহ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে দুই ব্যক্তি কাউন্টারের সামনে আসেন। এ সময় কাউন্টারে থাকা একমাত্র নারী যাত্রী পাশের বাথরুমে গেলে মোটরসাইকেলের পেছনে বসা ব্যক্তি কাউন্টারের ভেতরে ঢুকে সাকেরকে গুলি করেন। বাথরুম থেকে ফিরে ওই নারী তাকে কাউন্টারের ভেতরে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পাশের কাউন্টারের লোকজন তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক খন্দকার মাইনুল হাসান জানান, ভোরে স্বজনরা সাকেরকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তিনি স্ট্রোক করেছেন বলে তারা জানান। কিন্তু হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। এ সময় ইসিজি করে মৃত্যুর বিষয়টি তাদেরকে জানানো হয়। তবে সে সময় শরীরের কোথাও রক্তপাত হতে দেখা যায়নি।

মাগুরা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, প্রথমে জানা যায় স্ট্রোক কিংবা হার্ট অ্যাটাকজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু পরবর্তিতে মাথায় ক্ষত দেখা দিলে লাশ মর্গে পাঠানো হয়। ইতোমধ্যে পুলিশর একাধিক টিম ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। এই মৃত্যুর ঘটনায় কারা জড়িত সেই বিষয়টি নিশ্চিত হতে বিভিন্ন সূত্র ধরে তদন্ত চালানো হচ্ছে।

এদিকে স্বামীর এমন মৃত্যুতে দুই মেয়েকে নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েছেন রুমা। তার আহাজারিতে উঠে এসেছে সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হারানোর শোকের পাশাপাশি দুই সন্তানকে নিয়ে ভবিষ্যতে বেঁচে থাকার কঠিন বাস্তবতা।


     এই বিভাগের আরো খবর