ঢাকা, রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬ ()

ঈদ পরবর্তী বিএনপির চাপ

নির্বাচন–পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপি সরকারকে চাপে রাখতে বিভিন্ন কৌশল নিয়েছে সংসদে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য ৩২টি আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি তুলে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদন করেছে। এর মধ্যে অন্তত ১৩টি আসনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন ঐক্যভুক্ত দলগুলোর প্রার্থীরা।

একই সঙ্গে নির্বাচন ঘিরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক দুই উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও খলিলুর রহমানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে জামায়াত। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ ও বিচারের দাবি জানিয়ে বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কে তুলে ধরার চেষ্টা করছে দলটি। পাশাপাশি এসব বিষয়ে সংসদেও সোচ্চার থাকার চিন্তা জামায়াতের। দৃশ্যত এর মধ্য দিয়েই রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করার কৌশল নিয়েছে দলটি।গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। দলটি এককভাবে ২০৯টি এবং জোটগতভাবে ২১২টি আসনে জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে জামায়াত এককভাবে ৬৮টি এবং জোটগতভাবে ৭৭টি আসনে জয়লাভ করেছে।

নির্বাচনের দুই দিন পর গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ৩২টি আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়ে ইসিতে আবেদন করে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। এসব আসনের মধ্যে ২৫টিতে জামায়াত, ৩টিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ২টি আসনে খেলাফত মজলিস এবং ১টি করে আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রার্থী ছিলেন। এসব আসনে ভোটের ব্যবধান ছিল ১ হাজার ২৬ থেকে ১৩ হাজার ৬৩২।জামায়াতের অভিযোগ, এসব আসনে অল্প ব্যবধানে জামায়াত জোটের প্রার্থীদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন অনিয়ম হয়েছে। অনিয়মের মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত দেরি, পোলিং এজেন্টের স্বাক্ষর ছাড়া ফলাফল প্রকাশ, ভুয়া পোলিং এজেন্টের স্বাক্ষরে ফলাফল প্রকাশ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে পেনসিল দিয়ে ফলাফল লেখার মতো ঘটনা।

জামায়াতের প্রার্থীরা ইসিতে অভিযোগ জানানোর পরই নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যাওয়া শুরু করেন। ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে শুরু করে গত সপ্তাহ পর্যন্ত জামায়াতের ১২ জন প্রার্থী আদালতে গিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন খুলনা-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও দলের সেক্রেটারি জেনারেল ম‌িয়া গোলাম পরওয়ারও।

এ ছাড়া ঢাকা-৬, ঢাকা-৭, ঢাকা-১০, গাইবান্ধা-৪, নারায়ণগঞ্জ-২, নারায়ণগঞ্জ-৩, লালমনিরহাট-১, লালমনিরহাট-২, বরগুনা-২, পিরোজপুর-২ ও কক্সবাজার-৪ আসনের প্রার্থীরা আদালতে নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেছেন। এর বাইরে আদালতে গিয়েছেন ঢাকা-১৩ আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মো. মামুনুল হক।এদিকে যে ৩২টি আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানানো হয়েছিল, তার মধ্যে ঢাকা-৬, নারায়ণগঞ্জ-২ ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের উল্লেখ ছিল না। এই আসনগুলোয় জয়ী ও বিজিতের ভোটের ব্যবধানও তুলনামূলক বেশি। ঢাকা-৬ আসনে ব্যবধান ২৩ হাজারের বেশি। নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে ব্যবধান ৪২ হাজারের বেশি এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ব্যবধান সাড়ে ২০ হাজার। এর ফলে ভোট নিয়ে অভিযোগ শেষ পর্যন্ত ৩২ আসনে সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, সে আলোচনা শুরু হয়েছে।

জামায়াত নেতারা বলছেন, যেসব আসনে ভোটের তথ্য-উপাত্তে গরমিল পাওয়া যাচ্ছে, সেসব আসনের প্রার্থীরাই আদালতে যাচ্ছেন। ৩২টি আসনের বাইরেও যদি একই ধরনের তথ্য পাওয়া যায়, তবে সেসব আসনের প্রার্থীরাও আদালতে যেতে পারেন। এতে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা আসনের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।


     এই বিভাগের আরো খবর