ঢাকা, সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬ ()

আমেরিকা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থের মুখে

Oplus_131072

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন। বিবিসির এক বিশেষ বিশ্লেষণ এবং ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) যৌথ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুদ্ধের প্রথম দুই সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮০০ মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ সম্পদ ধ্বংস হয়েছে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকার সমান)।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত হামলার জবাবে তেহরান এই পাল্টা আঘাত শুরু করে। যদিও পেন্টাগন ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ধারণার চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ও স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিশেষ করে জর্ডানের একটি ঘাঁটিতে থাকা টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) সিস্টেমের রাডার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্যই প্রায় ৪৮৫ মিলিয়ন ডলার।

এছাড়া কুয়েতের আলি আল-সালিম, কাতারের আল-উদেইদ এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটির অবকাঠামো ও ভবন ধ্বংসে আরও প্রায় ৩১০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। থাড সিস্টেমের এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে যন্ত্রাংশ এনে মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় মোতায়েন করতে হয়েছে ওয়াশিংটনকে।

যুদ্ধের প্রভাবে কেবল জানমালের নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও অস্থিরতা শুরু হয়েছে। ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অবরোধ করায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, কারণ বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তারা ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করার লক্ষে অত্যন্ত সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন।

তবে পরিসংখ্যানে যুদ্ধের ভয়াবহ রূপ স্পষ্ট হচ্ছে, এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনাসহ প্রায় ৩ হাজার ২০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে বড় একটি অংশই সাধারণ বেসামরিক নাগরিক।

পেন্টাগন এবং সিএসআইএসের তথ্যমতে, এই যুদ্ধের ব্যয় অভাবনীয় গতিতে বাড়ছে। যুদ্ধের প্রথম ১২ দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হয়েছে প্রায় ১৬.৫ বিলিয়ন ডলার। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ কংগ্রেসের কাছে আরও ২০০ বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধকালীন তহবিল বরাদ্দের আবেদন করেছেন। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন নৌঘাঁটিগুলোতে রাডোম ও সংবেদনশীল সরঞ্জামের ধ্বংসযজ্ঞ, আর অন্যদিকে জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট; সব মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এখন এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে হরমুজ প্রণালী সচল করতে যুক্তরাষ্ট্র স্থলবাহিনী মোতায়েন করবে কি না, তা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলে নানা জল্পনা চলছে।

সূত্র: এনডিটিভি


     এই বিভাগের আরো খবর