রোজার মাসের আরেকটি দিনের সূচনা হলো ভোরের আলো ফুটতেই। পশ্চিম খান ইউনিসের আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত আল-শাফি মসজিদে ফজরের নামাজ শেষ হওয়ার সময় আকাশে ভনভন করা ইসরায়েলি ড্রোনের শব্দই শুধু শোনা যাচ্ছিল না। এর সঙ্গে ভেসে আসছিল গম্ভীর এক প্রতিধ্বনি—উচ্চস্বরে তিলাওয়াত করা কোরআনের আয়াত।
সাদা পোশাক পরা সারি সারি ফিলিস্তিনি পুরুষ ও কিশোরে ভরে যায় মসজিদের প্রাঙ্গণ।
তাদের একটাই লক্ষ্য, সূর্যাস্তের আগেই পুরো কোরআন তিলাওয়াত শেষ করা। কেউ চেয়ারে বসে, কেউ মেঝেতে শুয়ে, তবে সবাই মনোযোগী সেই পবিত্র দায়িত্ব পালনে।
মোট ২৫৬ জন কোরআন হাফেজ সেখানে বসেছিলেন। তাদের পাশে বসে থাকা সঙ্গীরা মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন, প্রতিটি শব্দ অনুসরণ করে দেখছিলেন যাতে তিলাওয়াত নিখুঁত থাকে।
এই সমাবেশের নাম ‘সাফওয়াত আল-হুফ্ফাজ’, অর্থাৎ ‘কোরআন হাফেজদের সেরা দল’। গাজায় রমজান পালনের এটি একটি বিশেষ সম্মিলিত আয়োজন। তবে প্রায় দুই বছর ধরে চলা ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধের পর এই আয়োজনের তাৎপর্য আরও গভীর হয়েছে।
ইসলামে কোরআন মুখস্থ করা অত্যন্ত সম্মানের বিষয়, যার জন্য বছরের পর বছর শৃঙ্খলা, পুনরাবৃত্তি ও গভীর নিষ্ঠার প্রয়োজন।
দীর্ঘদিন ধরে গাজায় কোরআন হিফজের সমৃদ্ধ একটি ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে, যা মানুষের আধ্যাত্মিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করে এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তৈরি করে।
একসঙ্গে বসে মুখস্থ থেকে পুরো কোরআন তিলাওয়াতের এই আয়োজন সেই ঐতিহ্যের অন্যতম অনন্য প্রকাশ।
ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধে ৭৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হলেও, অংশগ্রহণকারীরা এ বছরও এই আয়োজন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—আধ্যাত্মিক দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবে।
তিলাওয়াতে মনোযোগী ছিলেন ৫১ বছর বয়সী কোরআন হাফেজ মোহাম্মদ আল-কিরানাউই। গাঢ় রঙের চশমার আড়ালে লুকানো ছিল একটি সত্য—শৈশব থেকেই তিনি দৃষ্টিশক্তিহীন।
