একরামুল হোসেন আকাশ, বিশেষ প্রতিনিধিঃ আজ ৭ মার্চ। ১৯৫২ কিংবা ১৯৭১—বাঙালির ইতিহাসের পাতায় কিছু দিন কেবল ক্যালেন্ডারের তারিখ হয়ে থাকে না, হয়ে ওঠে চেতনার বাতিঘর। আজ থেকে ৫৫ বছর আগে ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ১৮ মিনিটের ভাষণটি ছিল একটি নিরস্ত্র জাতিকে সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার চূড়ান্ত নির্দেশ।
ইতিহাসের কালজয়ী ভাষণ – ১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চে যখন পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা করছিল, তখন বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠে ধ্বনিত হয় সেই ঐতিহাসিক ঘোষণা:
“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”
এই ভাষণ কেবল একটি রাজনৈতিক বক্তৃতা ছিল না; এটি ছিল একটি জাতির মুক্তির সনদ। ইউনেস্কো ২০১৭ সালে এই ভাষণকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ‘ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এর আন্তর্জাতিক মাহাত্ম্য প্রমাণ করেছে।
পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট ও জনস্মৃতি – ২০২৬ সালের আজকের এই দিনে ৭ মার্চের তাৎপর্য এক ভিন্ন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় বিগত বছরগুলোতে সরকারিভাবে এই দিনটির আনুষ্ঠানিক উদযাপন এবং ছুটির তালিকায় পরিবর্তন এসেছে। তবে সরকারি আড়ম্বরের বাইরেও সাধারণ মানুষের মনে দিবসটি নিয়ে রয়েছে মিশ্র আবেগ ও বিশ্লেষণ।
আজ সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে গুটিকয়েক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে দেখা গেছে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে অনেকে আজও সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ঐতিহাসিক ভাষণের অডিও ক্লিপ শেয়ার করে দিনের স্মৃতিচারণ করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি থাক বা না থাক, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের মূল ভিত্তি হিসেবে ৭ মার্চের ভাষণের গুরুত্ব ইতিহাসের ছাত্র ও সাধারণ মানুষের কাছে অপরিবর্তিত।
সময়ের স্রোতে অনেক কিছুই বদলে যায়, কিন্তু একটি জাতির অস্তিত্বের লড়াইয়ের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ৭ মার্চের আবেদন যে অম্লান, তা আজও স্পষ্ট। আজকের দিনে অনেক নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণী এই ভাষণের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে ইন্টারনেটে ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আলোচনা করতে দেখা যাচ্ছে, যা প্রমাণ করে যে ইতিহাস তার নিজস্ব গতিতেই টিকে থাকে।