ফজলার রহমান গাইবান্ধা থেকে ঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার ( ২৭ মার্চ) বিকেলে পলাশবাড়ী প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের নিম দাসের ভিটা গ্রামের আব্দুল হাই ব্যাপারীর মেয়ে লিমা বেগম। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান,আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তি গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী থানার নিমদাসের ভিটা মৌজার, জেএল নং- ১৫১, আর.এস খতিয়ান নং- ১৯৮, বর্তমান বি আর এস খতিয়ান নং- ৩৪২, হাল দাগ নং- ৫২০, সাবেক দাগ- ১৬৯, মোট জমি সাড়ে ৫ শতক বাদীর দাবী বটে। এই জমিটি ২০২০ সালে ক্রয় করা হয়।২০২০ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আমরা নিজেরাই ভোগ দখল করে আসছি। কিন্তু গত বছর (২০২৫ সালে) একই দাগের জমি আমার প্রতিবেশী মোঃ মতিউর রহমান ক্রয় করে। আমার পরিবার মোঃ আসাদুল ইসলাম একজন সৌদি প্রবাসি। আমার দুই ছেলে প্রথম ছেলের নাম- ওমর (৬ বছর), দ্বিতীয় ছেলের নাম- আমিরহামজা (১ বছর) ও দুই মেয়ে প্রথম মেয়ের নাম- আয়েশা (১১ বছর), দ্বিতীয় মেয়ের নাম- আফসানা (৮ বছর)। দুই বছর হলো আমার শশুর মারা যাওয়ার পর থেকে আমার পরিবারে অভিভাবকের বড় অভাব। মাথার উপর কেউ না থাকার কারণে সর্বক্ষেত্রে আমি এবং আমার পরিবার অবহেলিত হই। সেই সুযোগটাই গ্রহণ করে বিবাদীগণ। একই দাগের জমি ক্রয় করার পর থেকেই উপরে উল্লেখিত খতিয়ানের জমি দেড় বছর হলো ভোগ দখল করে আসছে। আমি বাঁধা দিতে গেলে প্রায় সময় ঝগড়া বিবাদ ও মারামারি লেগে থাকতো। গত ০৫/০১/২০২৬ইং তারিখে উল্লিখিত বিবাদিগণের নামে হরিনাবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে অভিযোগ করা হয়। তারা তদন্তে আসে এবং হুশিয়ারি দিয়ে যায় যাতে তারা তাদের সাথে ঝগড়া এবং মারামারি না করে। কিন্তু নির্বাচনের পরে তিনি ইউনিয়নের সভাপতি হন এবং আইনের তয়াক্কা না করে অত্যাচার মাত্রা বাড়িয়ে দেন। গত ১৮/০২/২০২৬ইং তারিখে রোজ বুধবার আনুমানিক ১:৩০ মিনিটে আমার জমিতে তারা ঘিরা দেয়। আমি বাঁধা দিতে গেলে বিবাদীগণ সবাই মিলে আমাকে মারে। আমার গলা টিপে ধরে কাঁদা মাটির সাথে ঠেসে ধরে এবং লাখি ঘুষি মেরে রক্তাত করে । আমার গলায় দেড় ভরি স্বর্ণের একটা মালা মোতালেব এবং নাকের ফুল রিং টান দিয়ে খুলে নেয়। আমার মেয়েআয়শা বাঁধা দিতে গেলে মতিউরের মা মমিনা বেগম তার চুল ধরে মাটিতে ফেলে দেয়, একপর্যায়ে মমিনা বেগম ছুরি নিয়ে আসে আমাদেরকে প্রাণে মারার জন্য এবং যমিনা বেগমের স্বামী মালেক মিয়া লাঠি দিয়ে আমার মেয়েকে এলোপাথারী পিটায়ে রক্তাত করে। বার ক্ষত দাগ এখনো তার শরীলে স্পষ্ট দেখা যায়। এমনকি আমার ৬ বছরের ছেলে ওমর কেও মতিউরের ভাই মোতালেব চড় থাপ্পড় মারে। এই সবকিছু করতে মতিউর রহমান তার পরিবারের সদস্যদের হুকুম দেন। এক পর্যায়ে এলাকার মানুষজন এগিয়ে আসলে আমরা মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পায়। তারা আমার এবং আমার মেয়ের জ্ঞান না থাকার কারণে মাথায় পানি ঢালে। শেষ পর্যন্ত জ্ঞান না ফিরলে অটোযোগে এলাকার কিছু সহৃদয়বান মানুষ গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে জরুরি বিভাগে ভর্তি করে। তিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে উক্ত ঘটনাটি সরজমিনে দেখে সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন। এ সময়ে তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে মাহমুদা বেগম, রেবেকা বেগম উপস্থিত ছিলেন।