ঢাকা, শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬ ()

কুয়েতের তেল সধোনাগারে ইরানের হামলা

Oplus_131072

ব্যাপক হামলার অংশ হিসেবে ড্রোন হামলায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কুয়েতের বৃহত্তম তেল শোধনাগার লক্ষ্যবস্তু করেছে ইরান। একই সময়ে ইসরায়েলি হামলায় তেহরানের আকাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এই হামলা এমন এক সময়ে হলো- যখন দেশটি পারস্য নববর্ষ উদযাপন করছিল।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, আজ শুক্রবার ভোরে ঈদুল ফিতর উদযাপনের সময় দৈনিক প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল তেল প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা সম্পন্ন মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারের একাধিক ইউনিটে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

কুয়েতের জাতীয় তেল কোম্পানি জানায়, কয়েকটি ইউনিট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। দেশটির সামরিক বাহিনী জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করছে।

এই হামলাগুলো ইরানের বিস্তৃত অভিযানের অংশ, যা উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে চালানো হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে ইরানের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র সাউথ পার্সে ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এ অভিযান শুরু করা হয়েছে। এই গ্যাসক্ষেত্রটি ইরানের অভ্যন্তরীণ প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ৮০ শতাংশ সরবরাহ করে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরের লক্ষ্যবস্তুকেও আঘাত করেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত জানায়, তারা আগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকির মুখে পড়েছে। বাহরাইন জানায়, ‘ইরানি আগ্রাসনে’র ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষ একটি গুদামে আগুন লাগায়। সৌদি আরব জানায়, তাদের বাহিনী দুই ঘণ্টার মধ্যে এক ডজনের বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সতর্ক করে বলেন, উপসাগরীয় অবকাঠামোর ওপর হামলা দেশটির সক্ষমতার ‘একটি অংশ মাত্র’ এবং ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলো আবার হামলার শিকার হলে ‘কোনো সংযম দেখানো হবে না।’

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, সাউথ পার্সে হামলাটি ইসরায়েল একাই চালিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর আরও হামলা থেকে আপাতত বিরত থাকবে। ট্রাম্প ওই হামলা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন।

বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল কাতারের রাস লাফান ইরানি হামলায় গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহের প্রায় ১৭ শতাংশ বন্ধ হয়ে গেছে এবং বছরে আনুমানিক ২০ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব ক্ষতি হবে। কাতারএনার্জির প্রধান সাদ আল-কাবি বলেন, মেরামত করতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে এবং ধ্বংসের মাত্রা অঞ্চলটিকে “১০ থেকে ২০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে”।


     এই বিভাগের আরো খবর