bbccrimenews:- আত্মনির্ভর ভারত গঠনের লক্ষ্যে সম্প্রতি দেশবাসীকে ‘লোকালের জন্য ভোকাল’ হওয়ার কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই লক্ষ্যে এবার বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। আর এর ফলে সবথেকে বেশি চাপে পড়ে যাবে চিন। বিশ্বস্ত সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে বৃহস্পতিবার এমনই জানিয়েছে সংবাদসংস্থা রয়টার্স।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রীয় প্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্তাকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা জানিয়েছে, দেশের বাজারে ঘরোয়া পণ্যের স্বার্থ রক্ষায় তৎপর হয়েছে সরকার। এর অঙ্গ হিসেবে প্রায় ৩০০টি বিদেশি পণ্যের ব্যবসার পথ রুদ্ধ করতে নানা পদক্ষেপ করা হতে পারে। এই সমস্ত পণ্যের একটা বড় অংশ চিন থেকে আসে। এমনই একটি পরিকল্পনা ইতোমধ্যে নর্থ ব্লকের বিবেচনাধীন। এই তালিকা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে বলে খবরে প্রকাশ।
ভারতে বছরে মোট যে পরিমাণ পণ্য আমদানি করা হয় তার প্রায় ১৪ শতাংশ চিন থেকে আসে। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য থেকে বিপুল মুনাফা করছে তারা। অথচ সে দেশের বাজারে ভারতীয় পণ্যের ক্ষেত্রে কোনও ছাড় দিচ্ছে না বেজিং। পড়শি দেশের এই পরস্পর বিরোধী অবস্থানে বাড়ছে বাণিজ্য ঘাটতি। লোকসান হচ্ছে ভারতের। সেখানেই রাশ টানতে তৎপর মোদী সরকার। ২০১৯ সালের মার্চে শেষ হওয়া আর্থিক বছরে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ৫ হাজার ৩৫০ কোটি মার্কিন ডলার। ২০১৯ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে চিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬৮০ কোটি মার্কিন ডলার।
জানা গিয়েছে, ১৬০ থেকে ২০০টি পণ্যের আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির কথা চিন্তাভাবনা করছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। এ ছাড়া শুল্ক না বাড়ানো হলেও আরও প্রায় ১০০টি পণ্যে এদেশে বিক্রির উপরে কড়াকড়ি করা হতে পারে। এই সমস্ত পণ্যের ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। অথবা গুণগত মান নিয়ে কড়াকড়ি বাড়াতে পারে সরকার।