যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সংঘবদ্ধ চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ প্রবেশপত্র, স্ট্যাম্প, ব্যাংক চেক, সনদপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
এসআরবি-৩-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের ২৪২টি শূন্যপদে নিয়োগের বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এতে আবেদন করেছিলেন ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী। পরীক্ষা সকাল ১১টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল ১০টা ৩ মিনিটে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার পর ছায়া তদন্ত শুরু করে এসআরবি। এ ঘটনায় ১১ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মতিঝিল থানায় মামলা করা হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় ১৪, ১৫ ও ১৬ অক্টোবর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. রুবেল ইসলাম (৩৩), মো. মফিজুল ইসলাম (২৩), মো. হাসিনুর রহমান সুজন (৩২), এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫), আসাদুল ইসলাম (৩৩), নূর মোহাম্মদ (৩০) ও জাহাঙ্গীর (৩৮)। এসআরবির দেওয়া তথ্যে, তাঁদের মধ্যে কয়েকজন সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ ও বিতরণের কার্যক্রম চালাত। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের চ্যাট ও অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ, উত্তর প্রস্তুত এবং সম্ভাব্য পরীক্ষার্থীদের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।
এসআরবির তথ্যমতে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় নূর মোহাম্মদ প্রথমে ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটের দিকে প্রশ্নপত্রের একটি অস্পষ্ট ছবি পান। পরে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে জাহাঙ্গীর তাঁকে প্রশ্নপত্রের একটি স্পষ্ট ছবি পাঠান। নূর মোহাম্মদ প্রশ্নের উত্তর প্রস্তুত করে জাহাঙ্গীর ও ইমদাদুলকে পাঠান। এরপর চক্রের অন্য সদস্যদের মাধ্যমে সম্ভাব্য পরীক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্ন ও উত্তর পৌঁছানো হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
এ ছাড়া ভর্তি-বাণিজ্যের নামে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে। এসআরবির দাবি, এ-সংক্রান্ত লেনদেনের সময় মতিঝিল এলাকা থেকে রুবেল ইসলাম, মফিজুল ইসলাম ও হাসিনুর রহমান সুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্য ও মোবাইল ফোনের চ্যাট পর্যালোচনার ভিত্তিতে অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১০০ টাকার ১১৬টি এবং ৫০ টাকার চারটি স্ট্যাম্প, প্রশ্নপত্রের এক সেট, বিভিন্ন পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ১৯ পাতা, ১০টি সনদপত্র, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকের ৪৮ পাতা ও একটি চেক, আটটি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন ক্যাটাগরির আরও ১৫টি সনদপত্র, ছয়টি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং নগদ চার হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।