ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ()
শিরোনাম
Headline Bullet নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক কর্তৃক সরকারি শিশু পরিবার পরিদর্শন Headline Bullet রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে জমি নিয়ে বিরোধে মারপিটে মহিলাসহ ৩জন আহত: Headline Bullet কুষ্টিয়ার হিরা জামে মসজিদের অজুখানা ও প্রসাবখানার বেহাল অবস্থা Headline Bullet বাংলাদেশ-ভারতের সেই কৃত্রিম দেয়াল আর নেই-ওবায়দুল কাদের Headline Bullet বাজারে হঠাৎ ধানের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে চালের Headline Bullet কুষ্টিয়ায় আরও এক জমি জালিয়াতের হোতা হাজি মফিজুল ইসলাম Headline Bullet কুষ্টিয়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে মালিকানা জমির মার্কেট ভেঙ্গে দখল.৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ Headline Bullet পচা পেঁয়াজের ট্রাক ফিরিয়ে নিল ভারত Headline Bullet সরকারি রাস্তা দখল করে দোকান নির্মাণ করছে ইউপি চেয়ারম্যানের ভাই Headline Bullet কুমারখালীতে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দম্পতি গ্রেফতার

বাবরি মসজিদ ভাঙা মামলার শুনানি ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের সর্বোচ্চ আদালত

ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআইএ-এর বিশেষ আদালতে চলমান বাবরি মসজিদ গুড়িয়ে দেয়ার মামলার শুনানি ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। ওই দিনই রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে।

এর আগে লখনৌর আদালতকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন সুপ্রিম কোর্ট। বিশেষ আদালতের বিচারক এসকে ইয়াদভ সুপ্রিম কোর্টের কাছে সময় দেয়ার আহ্বান জানানোয় নতুন তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

বাবরি মসজিদ গুড়িয়ে দেয়ার মামলায় এলকে আদভানি, মুরলি মহন জোশি এবং উমাভারতীর মতো ভারতের কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসীন দল বিজেপির শীর্ষ নেতারা অভিযুক্ত। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বরে বাবরি মসজিদ গুড়িয়ে দেয়া হয়। বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে।  

২০১৭ সাল থেকে সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে বিশেষ আদালতে পর্যায়ক্রমে শুনানি কার্যক্রম চলছে। ২ বছরের মধ্যে এ বিচারকার্য শেষ করার কথা ছিল।

২৪ জুলাই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মসজিদ গুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগের বিষয়ে নিজের সাক্ষ্য দিয়েছেন ৯২ বছর বয়সী আদভানি।

আগেরদিন সিবিআই আদালতে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন ৮৬ বছর বয়সী জোশী।

আদভানির আইনজীবী জানান, আদালত তাকে শতাধিক প্রশ্ন করেছে। তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন আদভানি।

জোশী জানিয়েছেন, তিনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার। তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।

উমা সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভিকে ২৫ জুলাই জানান, বাবরি মসজিদ গুড়িয়ে দেয়ার মামলার রায় যাই হোক না কেনো তাতে তার কিছু যায় আসে না। আমাকে আদালত ডেকেছেন। যা সত্যি আমি তাই আদালতকে জানিয়েছি। আদালত যে রায়ই দিক কোনো বিষয়ই না। আমাকে ফাঁসি দেয়া হলেও আমি খুশি। ভারতে জন্ম গ্রহণ করতে পেরে আমি ধন্য।

১৫২৭ সালে মুঘল সম্রাট বাবরের নির্দেশে উত্তর প্রদেশের ফৈজাবাদ জেলার অযোধ্যা শহরে বাবরি মসজিদ তৈরি হয়। মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির থাকতে পারে- এমন ধারণায় ১৮শ’ শতক থেকে এ নিয়ে মুসলমানের সঙ্গে বিতর্কে জড়ায় হিন্দুরা।

১৯ শতকের শুরু থেকে এ বিতর্কের জের ধরে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে একাধিক কলহের ঘটনা ঘটে। পাল্টাপাল্টি আদালতে মামলা দায়ের চলতে থাকে। ১৯৪৯ সালে হিন্দুত্ববাদীরা হিন্দু মহাসভার সাথে জোট বেঁধে গোপনে রামের একটি মূর্তি মসজিদের অভ্যন্তরে রেখে দেয়। এরপরই দাঙ্গা ঠেকানোর নামে পুরো মসজিদ সিলগালা করে দেয় সরকার। প্রবেশাধিকার পেতে আদালতে মামলা করে হিন্দু-মুসলমান দু’পক্ষ।

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং তাদের উগ্রপন্থী সহযোগী সংগঠনের কর্মীরা বাবরি মসজিদ গুড়িয়ে দেয়। যার ফলে পুরো ভারত জুড়েই দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। এই দাঙ্গায় প্রায় ২ হাজার মানুষ মারা যায়। যাদের বেশিরভাগই ছিলেন মুসলিম।

২০১০ সালে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড, নির্মোহী আখাড়া, রামলালার মধ্যে জমি সমান ভাগে করে দেয়ার নির্দেশ দেন এলাহাবাদ উচ্চ আদালত। এর ফলে হিন্দুরা পায় জমির তিন ভাগের দুই ভাগ। মুসলিমরা এক ভাগ। এর বিরুদ্ধে সব পক্ষই উচ্চ আদালতে আপিল করে।

২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর  উচ্চ আদালত নিম্ন আদালতের রায়কে বাতিল ঘোষণা করেন। রায় দেন ২ দশমিক ৭৭ একরের পুরো জমিই এমন একটি ট্রাস্টকে দিতে হবে; যারা মন্দির নির্মাণ করবে। একইসঙ্গে আদালত সরকারকে নির্দেশ দেয় সুন্নী ওয়াকফ বোর্ডকে বিকল্প ৫ একর জমি দিতে। যেখানে মসজিদ নির্মাণ হবে। আর সে জমি অযোধ্যায়ই হতে হবে।

মন্দির নির্মাণ এবং পর্যবেক্ষণে একটি ট্রাস্ট গঠনে সরকারকে নির্দেশ দেন আদালত। আদালত রায়ে আরো বলেন, ‘রাম মন্দির ভেঙে বাবরি মসজিদ তৈরি হয়েছে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মসজিদ ভাঙাকে অপরাধ বলেও অভিহিত করা হয়।’

ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বলছে, বাবরি মসজিদের ধংসাবশেষের তলদেশে কোনো ইসলামি নিদর্শন পাওয়া যায়নি। তাই আদালত সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সর্বসম্মতভাবে রাম মন্দির নির্মাণের পক্ষে রায় দেন।

মসজিদের তলদেশে ইসলামি নির্দশন পাওয়া পায়নি। পাওয়া যায়নি রামের বা মন্দিরের কোনো অস্তিত্বও।

সবশেষ ৫ আগস্ট ৪০ কেজি ওজনের রূপার ইট দিয়ে মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন নরেন্দ্র মোদি।


     এই বিভাগের আরো খবর