ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২০ ()
শিরোনাম
Headline Bullet বরগুনায় রিফাত হত্যা মামলায় কিশোর আসামীদের রায় হবে আগামীকাল: Headline Bullet মৎস্যজীবী লীগের সহ-সম্পাদক করায় প্রধানমন্ত্রীসহ নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন-আমিনুর রহমান: Headline Bullet নেত্রকোনায় ৫ সন্তানের জননীকে ধর্ষণ: Headline Bullet খোকসা পৌরসভার প্রতিটি পুজামন্ডবে ব্যক্তিগত উদ্দোগে আর্থিক অনুদান দিলেন আল মাছুম মুর্শেদ শান্ত! Headline Bullet বরগুনার পাথরঘাটায় ৯ হাত লম্বা অজগর সাপ উদ্ধার: Headline Bullet শারদীয় দূর্গা পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেন মেহেরপুর পৌর মেয়র রিটন। Headline Bullet জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা আটপাড়া শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক, নাছির আহমেদের জন্মদিন: Headline Bullet মাস্ক পরিধানে উদ্বুদ্ধকরণ ও সচেতনতামূলক প্রচারণা কাজ করছে মেহেরপুর পুলিশ: Headline Bullet ২১টি মন্দির পরিদর্শন ও অর্থ সহায়তা প্রদান করলেন আলম মোল্যা: Headline Bullet পূজার শাড়ী পছন্দ না হওয়ায় বালিয়াকান্দিতে গলায় ফাঁস নিয়ে গৃহবধুর আত্নহত্যা:

স্বাস্থ্য ডিজির গাড়িচালক যখন কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক

নাম তার আবদুল মালেক ওরফে বাদল। পেশায় গাড়িচালক বাদল, চাকরি করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। বাদলের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন কেঁচো খুঁড়তে কেউটে সাপ পেয়ে গেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঢাকায় তাঁর দুটি সাততলা ভবন, নির্মাণাধীন একটি দশ তলা ভবন, জমি, গরুর খামার খুঁজে পেয়েছে। তারা বলছে, এখনো এই খোঁজ শেষ হয়নি।  

র‍্যাব-১ রোববার বেলা সোয়া ৩ টার দিকে আবদুল মালেককে তুরাগের বামনারটেক এলাকার একটি সাততলা ভবন থেকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি, দেড় লাখ জাল বাংলাদেশি টাকা, একটি ল্যাপটপ ও একটি মোবাইল উদ্ধার হয় বলে দাবি তাদের। 

এ বিষয়ে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান, আবদুল মালেক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিবহন পুলের একজন গাড়িচালক ও তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। অষ্টম শ্রেণি পাস আবদুল মালেক ১৯৮২ সালে প্রথম সাভার স্বাস্থ্য প্রকল্পের গাড়িচালক হিসেবে যোগ দেন। বছর চারেক পর অধিদপ্তরের পরিবহন পুলে যোগ দেন। গ্রেপ্তারের আগ পর্যন্ত তিনি প্রেষণে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিবহন পুলের গাড়িচালক ছিলেন। ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তিনি বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছেন।

তার স্ত্রী দুজন। প্রথম স্ত্রী নার্গিস আক্তারের নামে তুরাগ এলাকার দক্ষিণ বামারপাড়া রমজান মার্কেটের উত্তরপাশে ছয় কাঠা জায়গার ওপর সাত তলার দুটো আবাসিক ভবন আছে। নাম হাজী কমপ্লেক্স। এতে ফ্ল্যাট সংখ্যা ২৪টি। ওই ভবনের সামনে আছে ১০-১২ কাঠার আরেকটি প্লট। ভবনের তৃতীয় তলায় তিনি সপরিবারে থাকেন। বাকি ফ্ল্যাটগুলো ভাড়া দেওয়া আছে। বড় মেয়ে ‘বেবি’র নামে দক্ষিণ কামারপাড়ার ৭০ রাজাবাড়ি হোল্ডিং এ ১৫ কাঠা জায়গার ওপর ইমন ডেইরি ফার্ম নামে একটি গরুর ফার্ম আছে। এতে ৫০টি বাছুরসহ গাভি আছে। এর বাইরে ২৩, ফ্রি স্কুল রোড, হাতিরপুলে পৈতৃক সাড়ে চার কাঠা জায়গার ওপর দশতলা নির্মাণাধীন ভবন আছে। ভাই আবদুল খালেকের সঙ্গে বিরোধের কারণে ভবনটির নির্মাণকাজ আদালতের নির্দেশে বন্ধ আছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, বাদল বরাবর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ চিকিৎসক নেতাদের আনুকূল্য পেয়েছেন। তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী রাবেয়া খাতুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইব্রেরিতে কাজ করেন। আবদুল মালেক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ড্রাইভারস অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি সংগঠন তৈরি করে নিজেই সংগঠনের সভাপতি পদে বসেছেন। গাড়িচালকদের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি তাঁর নিয়ন্ত্রণে। চিকিৎসকদের বদলি ও পদোন্নতি এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের নিয়োগে তাঁর হাত আছে বলে অভিযোগ আছে। এক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেই তিনি তাঁর পরিবারের সাতজনকে চাকরি দিয়েছেন।

অধিদপ্তরে এখন অফিস সহকারী পদে কাজ করেন আবদুল মালেকের মেয়ে নৌরিন সুলতানা বেলি। এর বাইরে ভাই আবদুল খালেক অফিস সহকারী পদে, বড় মেয়ে বেবির স্বামী রতন অধিদপ্তরের ক্যানটিন ম্যানেজার, ভাগনে সোগেল শিকারী গাড়িচালক, ভায়রা মাহবুব গাড়ি চালক এবং নিকটাত্মীয় কামাল পাসা অফিস সহকারী হিসেবে চাকরি করছেন।


     এই বিভাগের আরো খবর